রবিবার ● ১১ অক্টোবর ২০২৬
লালমোহনে সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি শিল্পে নানা সংকটে খামারিরা
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৭)
ভোর হওয়ার আগেই শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। খামারে ঢুকতেই শোনা যায় হাজারো মুরগির ডাক। কেউ খাবার দিচ্ছেন, কেউ ডিম সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত মুরগির পরিচর্যায়। প্রতিদিনের এই ব্যস্ততাকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার পোল্ট্রি মুরগির খামারিরা। কারও কাছে এটি জীবিকার অবলম্বন, কারও কাছে কর্মসংস্থানের পথ, আবার কারও কাছে স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প। তবে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি নানা সংকট ও সমস্যায় জর্জরিত খামারিরা।

লালমোহনের বিভিন্ন খামারে উৎপাদিত ডিম ও মুরগির মাংস স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সরবরাহ হয়। এতে অনেক উদ্যোক্তা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই, ওষুধের অতিরিক্ত খরচ এবং ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মাঝেমধ্যে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের।

রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি হাজী আব্দুল মালেক প্রায় ২০ একর জমিতে খামার গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১৫ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। এসব মুরগি থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। খামারে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শ্রমিক। খামারি হাজী আব্দুল মালেক বলেন, মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুরগিকে রক্ষা করতে নিয়মিত ওষুধ দিতে হয়। এতে খামার পরিচালনার ব্যয়ও বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে খামার পরিচালনা কিংবা মুরগির রোগবালাই বিষয়ে পরামর্শ পাইনি। তাদের কাউকেও খামারে এসে সরেজমিনে পরামর্শ দিতে দেখিনি। তবে পোল্ট্রি খামারের মাধ্যমে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের বিনা সুদে ঋণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।

একই অভিযোগ উপজেলার পোল্ট্রি খামারি মো. খায়রুল হাসান কাঞ্চন, মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা, হাজী আবু তাহের, মো. ফরিদ উদ্দিন, মো. আহমদ উল্যাহ, মো. জাকির মাতাব্বর, মো. হুমায়ুন কবির ও মো. সেলিমসহ আরও অনেকের। তারা জানান, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। কিন্তু রোগবালাই প্রতিরোধ কিংবা মুরগির চিকিৎসার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব খামারে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়।
এসব খামারি বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলের শত শত বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ শিল্পের আরও প্রসারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ, নিয়মিত খামার পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা জরুরি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, নিয়মিত চিকিৎসা এবং কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে লালমোহনে পোল্ট্রি শিল্পের আরও সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সম্ভাবনাময় এ শিল্প।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন অর রশিদ বলেন, খামারিদের অভিযোগ সত্য। নিয়মিতভাবে পোল্ট্রি খামার ও মুরগির তদারকি করার নিয়ম রয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে খামারিদের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনবল সংকট কেটে গেলে প্রতিটি খামারির কাছে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft