কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় হোমওয়ার্ক (বাড়ির কাজ) না করার অজুহাতে মাইশা (৮) নামের আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অমানবিক এই মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বর্তমানে সে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নিয়ামত উল্লাহ। তিনি উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশু মাইশা পৌর এলাকার উত্তরপাড়া গ্রামের মোস্তাকিম হোসেনের মেয়ে এবং ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিশুটির পরিবার জানায়, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্লাস চলাকালে হোমওয়ার্ক না করার কারণ দেখিয়ে মাইশাকে প্রথমে বকাঝকা করেন শিক্ষক নিয়ামত উল্লাহ। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন। লাঠির আঘাতে মাইশার দুই হাত, ডান উরু, দুই পা ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে ও ফোলা জখমের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত মারধরের একপর্যায়ে শিশুটি ক্লাসেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি শিশুটির পরিবারকে জানাননি। পরে দুপুরের দিকে অন্য এক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে মাইশাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত শিশুর মা মোছা. নাদিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। হোমওয়ার্ক না করার অজুহাতে একটি ৮ বছরের শিশুকে যেভাবে পেটানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর আইনগত শাস্তি দাবি করছি।’
এ বিষয়ে দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস জানান, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব