নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাছলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক তায়েজুল ইসলামকে 'মব' সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকাছাড়া করার পর এবার বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. হায়দার মিয়া (লাটু মিয়া) জানান, ১ শতাংশ জায়গায় তিনি 'মায়ের দোয়া' নামে একটি মনোহারি দোকান দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ও ১৫ সেপ্টেম্বর ২০-২৫ জন লোক তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা দোকানের টিন ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় তিনি প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে ১ একর ৫০ শতাংশ জমি দান করে হাছলা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে উচ্চবিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠা করেন তায়েজুল ইসলাম। গত বছরের ২৬ অক্টোবর স্থানীয় একটি চক্র মব সৃষ্টি করে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এরপর থেকে তাকে আর বিদ্যালয়ে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রাণের ভয়ে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান ও স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাদেক মিয়া জানান, সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাকে আগেই দোকান সরাতে বলা হয়েছিল।
হাছলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক তায়েজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জমি দান করে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেও আমি আজ প্রাণভয়ে এলাকা ছাড়া। ভাগনেকে যেখানে দোকান করতে দিয়েছিলাম, সেটাও ভেঙে ফেলা হলো। বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।"
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুফিদুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব