যশোরের মণিরামপুরে সরকারি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সংযোগ খালগুলো পুনঃখনন ও সংস্কার না করায় চরম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অবৈধ নেট-পাটা ও কচুরিপানায় খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় উপজেলার খানপুর ও দুর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খানপুর ইউনিয়নের শেখপাড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত দীর্ঘ শেখপাড়া খালটি দিয়ে ডজনখানেক গ্রামের পানি ভবদহ স্লুইস গেট দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা খালে নেট-পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা এবং কচুরিপানা জমায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চলতি আমন মৌসুমে লোকসানের পর আসন্ন বোরো চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসেন আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। তারা শেখপাড়া খালের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা পরিষ্কার করে কৃত্রিম বাধা সরিয়ে দেন। ফলে দীর্ঘদিন পর খালে পানির প্রবাহ ফিরে পাওয়ায় আশার আলো দেখছেন স্থানীয় চাষিরা।
আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ ও দলনেতা শরিফুল ইসলাম জানান, স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খালের জট পরিষ্কার করায় পানিতে আবার স্রোত ফিরে এসেছে, যা কৃষকদের বোরো আবাদে বড় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে খালের অবৈধ দখল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খানপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২০ বছর ধরে সরকারি এই খালটি নেট-পাটা দিয়ে আটকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হলেও এটি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, শেখপাড়া খাল সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য তাঁদের নথিতে না থাকলেও কৃষকদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে এটি দ্রুত পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব