গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে তাণ্ডব চালিয়ে শিশু ও নারীসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা একটি শিয়ালের মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। শিয়ালটি জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায়। গত রোববার বিকেলে হঠাৎ একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পথচারী ও বসতবাড়িতে থাকা মানুষদের ওপর হামলা চালায়। এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ৯ জন গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন— নিলি বেগম (৪০), সাদেক হোসেন (৭০), আফরুজা বেগম (৩৭), শাওন মিয়া (৬), রাবেয়া বেগম (৩৮), রাকিবুল হাসান (১৩), এনামুল হক (২৬), আয়শা আক্তার (৩) এবং হাসান মিয়া (৭)।
আক্রমণের পর স্থানীয়রা একজোট হয়ে শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিয়ালটির মাথা কেটে সংগ্রহ করে এবং বাকি অংশ সুরক্ষামূলকভাবে মাটিতে পুঁতে ফেলে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কেএম ইফতেখারুল ইসলাম জানান, “শিয়ালের কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা শেষে জানা যাবে শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না। আহত সবাইকে ইতিমধ্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম আহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার সুবিধার্থে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব