নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ বছর ধরে ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিনেও ব্রিজটির স্থায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এলাকার প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় এসে ব্রিজটি পরিদর্শন করে গেছেন। তবে পরিদর্শন ও আশ্বাসের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ব্রিজটির স্থায়ী সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
ওই এলাকার ৯৯ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল । ব্রিজটি ভাঙা থাকায় তাদের উৎপাদিত ধান, গবাদিপশুর খড় ও কৃষিপণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। ব্রিজটি ভাঙা থাকায় কৃষকদের অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
চাকুয়া গ্রামের সন্তান অসিম চৌধুরী (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পঞ্চগড় জেলা) দৈনিক আজকালের খবরকে বলেন, ব্রিজটা ভাঙা থাকায় প্রতিদিন কোমলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানি ও কাদার কারণে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে । সাঁতার না জানা ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের থাকতে হয় দুঃচিন্তায়।
"অরিন্দম" সামাজিক সংগঠনের সদস্য সজিব সরকার ও প্রবাল চৌধুরীর দাবি, একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো এত বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কোন আশার আলো দেখি নাই।
এ বিষয়ে চাকুয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী ও তরিকুজ্জামান তরু জানান, ব্রিজটি দীর্ঘদিন ভাঙা ছিল এটা সত্য। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সংসদ লুৎফুজ্জামান বাবরের নিকট ব্রিজে সংস্কারের বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে এবং উনি তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এই বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা এলজিইডির সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার হোসেন জানান ব্রিজ পুনঃনির্মাণের জন্য সকল তথ্য উপাত্ত ( দৈর্ঘ্য,প্রস্থ, ব্যয়) সহ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে আশা করা যায়।
আজকালের খবর/বিএস