নওগাঁর সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে টয়লেটের তীব্র দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। বহির্বিভাগের সংস্কারকাজের সময় টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ভেঙে ফেলার পর কাজ না করেই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশ্রী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের টয়লেটের আউটলেট ট্যাংকির একটি অংশ ভাঙা পড়ে আছে। সেখান দিয়ে মল-মূত্র বের হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকার পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা নিতে আসা শত শত মানুষকে এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বাধ্য হয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন হাসান আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীকে সুস্থ করতে হাসপাতালে নিয়ে এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ার মতো অবস্থা। দ্রুত এই দুর্গন্ধ বন্ধ করা দরকার।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বহির্বিভাগের মেরামতকাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি টয়লেটের নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় ফেলেই কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে যান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, জনভোগান্তি নিরসনে রাজশাহী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) নির্বাহী প্রকৌশলীকে কয়েক দফায় লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নওগাঁর সিভিল সার্জনকেও অবহিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাশিদ নায়ীব সিজান জানান, ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতার কারণে সৃষ্ট এই চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বর্তমানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব