“বাবা আমি আর পারছি না। রাতে শরীরের অনেক ব্যথা হয়। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আবার চিকিৎসা নিতে পারবো।”—কথাগুলো বলার সময় কেঁদে ফেলেন ক্যান্সার আক্রান্ত মোমেনা খাতুন (৫৮)।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের তৈয়বপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী মোমেনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে প্রাণঘাতী ক্যান্সারে ভুগছেন। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পারায় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে তার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ক্যান্সার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা তাকে ব্যয়বহুল কেমোথেরাপি দেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রতি কেমোথেরাপিতে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। পরিবারের সব সম্বল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে কয়েকটি কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব হলেও পরবর্তীতে টাকার অভাবে চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
মোমেনা খাতুনের ছেলে পেশায় কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, মা ও তার যা কিছু সম্বল ছিল, সবই চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করে এখন তারা সর্বস্বান্ত ও ঋণে জর্জরিত। ২০২৪ সালে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে পাওয়া ৫০ হাজার টাকার অনুদানও পুরোনো ঋণ পরিশোধে চলে গেছে। সীমিত আয়ে সংসার চালিয়ে মায়ের এমন ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও স্থানীয়রা জানান, মোমেনা খাতুনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। তার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা। নন্দীগ্রাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অসুস্থ মোমেনা খাতুনের চিকিৎসার জন্য কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সহযোগিতা পাঠাতে চাইলে তার ছেলে আব্দুল মোমিনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
মোবাইল ও নগদ নম্বর: ০১৭৮৮-২৩৬৬২৬ (আব্দুল মোমিন, ছেলে)।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব