কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত 'কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্রটি' নির্মাণের ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি। উদ্বোধনের আগেই দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থেকে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে চলেছে। স্থানটি থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও ঘটেছে। জনবল সংকট ও নীতিমালা সংক্রান্ত জটিলতায় এই সরকারি উদ্যোগটি চালুর বিষয়টি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ) বগুড়ার উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। ২০২২-২৩ মেয়াদের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরডিএ-র কাছে ভবন ও যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করে। এই কেন্দ্রে ধান, গম, তেল মাড়াই, মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ, চিপস ও বেকারির কাজ এবং মাছ-মাংস ও শাকসবজি সংরক্ষণের কোল্ড চেম্বারের সুব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে স্থানীয় ২০ জন মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার কথা ছিল।
তবে চালুর উদ্যোগ না থাকায় কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা। ফলে সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকার পচনশীল কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ে কেন্দ্রটি চালু করে তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
আরডিএ রংপুর কেন্দ্রের পরিচালক মো. জাহেদুল হক চৌধুরী জানান, জনবল সংকটের কারণে নিজস্ব অর্থায়নে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই নীতিমালা পরিবর্তন করে দ্রুতই টেন্ডারের মাধ্যমে কোনো সমবায় সমিতি, এনজিও বা ব্যক্তি মালিকানায় তিন বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম আরিফ জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রটি দ্রুত সচল করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব