ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ভাদ্রের শুরুতেই শুরু হয়েছে গাছে গাছে তাল পাকার সুবাস। আর এর সঙ্গেই বগুড়ার নন্দীগ্রামসহ পুরো অঞ্চলের গ্রামগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী তালের রকমারি খাবার তৈরির ধুম পড়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখে পালিত হয়ে আসা ‘তেরা’ উৎসবের ধারা ধরে রেখে প্রতিটি পরিবারেই এখন তৈরি হচ্ছে তালের পিঠা, তালের বড়া ও সুস্বাদু পায়েস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর হতেই তলা থেকে তাল কুড়াতে মানুষের ভিড় নামছে গাছতলায়। আর যাদের নিজস্ব গাছ নেই, তারা ছুটছেন স্থানীয় হাট-বাজারে। বাজারে মূলত ‘মহিষা’ (কালো ও বড় আকৃতির) এবং ‘দুধা’ (লালচে ও মাঝারি আকৃতির)—এই দুই ধরনের পাকা তাল দেখা যাচ্ছে। বাজারে আকারভেদে প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়। কেনা তালের রস চিপে ছেঁকে গুড়, চিনি, দুধ ও গরম মসলার মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে জিভে জল আনা সব খাবার।
স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও অনন্য এই ফল। পুষ্টিবিদদের মতে, তালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, যা মানুষের হাড় ও দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া তালের ভিটামিন বি শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে এবং মানুষের স্মৃতিশক্তি ও সাধারণ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, আগের তুলনায় গ্রামগঞ্জে তালগাছের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে, যার ফলে অনেক ঐতিহ্যবাহী তালের রস ও পিঠার স্বাদ আগের মতো সহজে মিলছে না। ঐতিহ্য ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতে বেশি বেশি তালবীজ রোপণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব