নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জুড়ে বিস্তৃত চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি এখন ঘন কচুরিপানার নিচে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এতে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, মৎস্যজীবী ও পর্যটকরা। চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর জমি জটবেঁধে থাকা কচুরিপানার দখলে চলে গেছে। থমকে গেছে বিলের স্বাভাবিক নৌ চলাচল ও জলপথের বাণিজ্য।
বর্ষার মৌসুমে কচুরিপানার তীব্র আগ্রাসনে চলনবিলের সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ না মেলায় বেকার হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। অন্যদিকে বিলের প্রধান নৌপথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুর ও নৌকার মাঝিরা। এ ছাড়া জমিতে জমে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিলপাড়ের প্রায় ৩০ হাজার কৃষক। সামনে আমন ধান, আগাম সরিষা, গম ও ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে তারা দিশেহারা। বিঘা প্রতি কচুরিপানা সরাতে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা মেটাতে কৃষকের পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশ আন্দোলনকারীদের মতে, বিলে অবৈধ সোঁতিজাল দেওয়ার কারণে কচুরিপানা আটকে এই স্থায়ী জটের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে এগুলো অপসারণ করা না হলে পুরো চলনবিলের কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, সোঁতিজাল অপসারণের পাশাপাশি মেশিন দিয়ে কচুরিপানা কেটে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব