শ্রাবণের শেষ আর ভাদ্রের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নওগাঁর বদলগাছীতে পুরোদমে শুরু হয়েছে রোপা আমনের ব্যস্ততা। গত সপ্তাহের টানা বর্ষণে দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে ধান রোপণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে। উপজেলার মাঠগুলোতে এখন কৃষকদের তীব্র কর্মমুখরতা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
বদলগাছী ও ভান্ডারপুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই চারা কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে উপচে পড়া ভিড় জমে উঠছে। নিজস্ব বীজতলা না থাকা কিংবা বৃষ্টিতে বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক কৃষক হাট থেকে চারা সংগ্রহ করছেন। হাটে জাতভেদে চারা বিক্রিতে ভিন্নতা দেখা গেছে; প্রতি পণ (৮০টি) চিনি আতব ও গোল্ডেন আতবের চারা ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, স্বর্ণা-৫ জাতের চারা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ৯০ জাতের চারা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাট ইজারাদারদের মতে, প্রতিটি হাটে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ১০০ পণ চারা কেনাবেচা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলগাছীর আটটি ইউনিয়নে রোপা আমন চাষের জন্য মোট ১৪ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে রোপা আমন চাষের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও রোপণ কাজ চলছে। বাকি জমিগুলোতে এখনও আউশ ধান বিদ্যমান থাকায়, তা কাটার পরপরই আমন রোপণ করা হবে। কৃষকেরা ব্রি-ধান, স্বর্ণা, কাটারিভোগ ও সুগন্ধি জাতের চারা রোপণ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান জানান, সময়মতো বৃষ্টিপাত ও প্রয়োজনীয় সার-উপকরণের সরবরাহ ঠিক থাকায় রোপণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে কৃষকদের ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সের চারা রোপণের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব