সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী হাওরবেষ্টিত মধ্যনগর উপজেলার ১০ শয্যাবিশিষ্ট ফুলেন্নেছা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে এক মাস ধরে প্রসব ও মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কোনো চিকিৎসক না থাকা এবং একমাত্র পদায়নকৃত প্রসংগভিত্তিক মিডওয়াইফের (প্রশিক্ষিত ধাত্রী) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে চলে যাওয়ায় এই মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দুর্গম এ অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী প্রয়োজনীয় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রসূতিদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে।
বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামে অবস্থিত এ কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী দু’জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাসহ মোট সাতটি পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থায়ী কোনো লোকবল দেওয়া হয়নি। এতদিন চুক্তিভিত্তিক একজন মিডওয়াইফ ও একজন ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) সেবা ও চিকিৎসাসেবা চালু ছিল। তবে গত ৩১ জুলাই মিডওয়াইফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কেন্দ্রটির সেবাদান কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়।
যোগাযোগের তীব্র দুর্গমতার মধ্যে হাওরের এই একমাত্র ভরসাস্থলটি সেবাশূন্য হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত অন্তঃসত্ত্বা নারী। প্রসূতিদের চরম ঝুঁকি নিয়ে এখন প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। বর্ষাকালে উত্তাল হাওর পার হতে গিয়ে অনেক প্রসূতির অবস্থা পথেই আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে স্থায়ী চিকিৎসক ও দক্ষ প্রসব সেবাদানকারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাময়িক এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকারিভাবে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুনরায় সেবা কার্যক্রম চালুর চেষ্টা চলছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব