বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬
ডোমারে চাচার বিরুদ্ধে মানসিক ভারসাম্যহীন ভাতিজার জমি লিখে নেয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম   (ভিজিট : ৫৬৩)
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের পৈতৃক জমি ও বসতভিটা প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচার বিরুদ্ধে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ওই যুবকের বর্তমান ঠিকানা এখন স্থানীয় কবরস্থান। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পূর্ব চিকনমাটি হুজুরপাড়া এলাকায়।
যেভাবে নিঃস্ব হলেন ময়নুল

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে মা মারা যাওয়ায় ও স্ত্রী চলে যাওয়ার ঘটনায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন ময়নুল নামে এক ব্যক্তি। ময়নুলের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নেন তার আপন চাচা কছির উদ্দিন, যিনি ফায়ার সার্ভিসে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ উঠেছে, ময়নুল অপ্রকৃতিস্থ থাকাকালীন জালিয়াতির মাধ্যমে তার সব জমি নিজের নামে লিখে নেন চাচা কছির। জমি কেড়ে নেওয়ার পর ময়নুলকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ভিটেমাটি হারিয়ে ময়নুল স্থানীয় কবরস্থানে আশ্রয় নেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় সেখানে একটি ছোট চালা ঘর তোলা হলেও কছির উদ্দিনের ছেলে ও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা আঃ ছালাম সেটি ভেঙে ত্যানা-বিছানা লুট করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় পলিথিন টাঙিয়ে কোনোমতে দিনাতিপাত করছেন ময়নুল। বাবার মতো ছেলেও একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও যে নিচতা দেখিয়েছেন, তা মানবতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

একজন সাধারণ বাবুর্চি হয়ে কছির উদ্দিন কীভাবে বিশাল অট্টালিকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 

ময়নুলের বৃদ্ধ বাবা কফিল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলের জমি লিখে নিয়েছে অথচ আমি জানিই না। আমার আপন ভাই হয়ে আমার ছেলের জমি এভাবে লিখে নিয়েছে—এটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। এলাকাবাসীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই জঘন্য কাজের যেন উপযুক্ত বিচার হয়।” একজন বাবার এই হাহাকার আজ হুজুর পাড়ার আকাশ-বাতাসকে ভারী করে তুলেছে।

নিজের ওপর হওয়া এই জঘন্য অবিচার নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বয়ং ময়নুল। তিনি বলেন, “আমার চাচা আমাকে জোর করে নিয়ে গিয়ে কিছু কাগজে আমার স্বাক্ষর নেয়। আমি তখন ভালোমতো কিছু বুঝতে পারিনি। এর কিছুদিন পর তারা আমাকে বলে আমার ঘরবাড়ি আর জমিজমাগুলো নাকি তাদের হয়ে গেছে।” একজন ভারসাম্যহীন মানুষকে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া যে কত বড় ফৌজদারি অপরাধ, ময়নুলের এই বক্তব্যই তার প্রমাণ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম ও ইউপি সদস্য জহিনুর ইসলাম সুজন জমি জবরদখলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অত্র এলাকার মসজিদের ইমাম এই ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য বলে অভিহিত করেছেন।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযুক্ত কছির উদ্দিন ও তার ছেলে আঃ ছালাম এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft