গ্রামবাংলার নান্দনিক সৌন্দর্যের প্রতীক এবং প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত বাবুই পাখি ও তার সুনিপুণ বাসা এখন বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিরল হয়ে পড়েছে। একসময় উপজেলার গ্রামগঞ্জের তাল, খেজুর ও নারিকেল গাছে ঝুলন্ত শৈল্পিক বাসার দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়লেও কালের বিবর্তনে তা এখন বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়দের মতে, আগে প্রতিটি গ্রামের রাস্তার পাশে, পুকুরপাড়ে ও মাঠে সারি সারি তাল ও খেজুর গাছ দেখা যেত। এসব গাছে বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা ও কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত থাকত প্রকৃতি। তবে বর্তমানে নির্বিচারে তাল ও খেজুর গাছ কেটে ফেলা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং ফসলি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বাবুই পাখির খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "গাছপালা কেটে ফেলা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে বাবুই পাখি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই পাখি কেবল বইয়ের গল্প আর ছবিতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।"
প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতন মহল বলছেন, বাবুই পাখিসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবিলম্বে তাল ও খেজুর গাছ রোপণ বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব