নাটোরের গুরুদাসপুরে শিক্ষা ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন অনিয়ম ও উদাসীনতার চিত্র তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। সম্প্রতি এসএসসির ফলাফল বিপর্যয় ও সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি শিক্ষকদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষক সমিতি আয়োজিত দিনব্যাপী মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তিনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পাইলট স্কুলের ৩৯ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে তাদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে, তা না হলে নম্বর দেওয়া হয় না। এ ছাড়া পৌর সদরের শহীদ মোবিদুল হাইস্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, "সেখানে ৪২ জন শিক্ষার্থীর জায়গায় মাত্র ২ জন উপস্থিত ছিল। এমনকি শ্রেণিকক্ষে যে শিক্ষক ইংরেজি ‘আর্টিকেল’ পড়াচ্ছিলেন, তিনি তা বানান করে লিখতে পারেননি; স্কুলের অন্য কোনো শিক্ষকও তা উদ্ধার করতে পারেননি।"
অন্যান্য স্কুলের অনিয়ম তুলে ধরে তিনি জানান, নূর মোহাম্মদ টেকনিক্যাল স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, শিধুলী হাইস্কুলে নির্দিষ্ট গাইড কিনতে বাধ্য করা এবং চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সময়মতো স্কুলে না থাকার প্রমাণ তিনি নিজে পেয়েছেন।
শিক্ষকদের পারস্পরিক কোন্দল ও সংঘাতের কঠোর সমালোচনা করে ইউএনও বলেন, কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ঝাউপাড়ায় শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে শিক্ষক কক্ষের ভেতরেই হাতুড়ি নিয়ে মারামারির মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনে অতিরিক্ত আসক্তি এবং এতে অভিভাবকদের উদাসীনতাকেও শিক্ষার মান পতনের জন্য দায়ী করেন।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির আয়োজনে উক্ত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা অফিসার রুস্তম আলী হেলালী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ইউএনও’র এই কড়া ও স্পষ্ট বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষক ও সুশীল সমাজের মধ্যে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব