![]() |

উপজেলা সদরে না গিয়েও বাড়ির কাছেই সরকারি নানা সেবা পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সময়, অর্থ এবং শারীরিক দুর্ভোগ কমাতে দাউদপুর ইউনিয়নের বেলদী ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে একদিনের জন্য এই সমন্বিত সেবা কেন্দ্র বসায় রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, কৃষি পরামর্শ, গবাদিপশুর চিকিৎসা, ভূমিসেবা—সবই মিলছিল একই স্থানে। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে প্রায় ৯ হাজার মানুষ সেবা গ্রহণ করেছেন।
সোমবার রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে বেলদী ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে দেখা যায় সারি সারি বুথ। স্বাস্থ্য বিভাগ, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, নির্বাচন অফিস, সমাজসেবা, ভূমি ও সমবায় অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বুথে বসে সরাসরি সেবা দিচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন বয়োবৃদ্ধ ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগতে থাকা মানুষেরা। ৫৫ বছর বয়সী ফালানি বেগম জানান, বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম সংশোধনের জন্য উপজেলা সদরে যাওয়া তার জন্য খুবই কঠিন ছিল। বাড়ির কাছেই এই সুযোগ মেলায় তার ভোগান্তি দূর হয়েছে।
একইভাবে বেলদী এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান ফরিদ গরুর চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। তিনি বলেন, “দাউদপুর থেকে প্রাণিসম্পদ অফিসে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে, ভাড়াও অনেক। বাড়ির কাছে এমন সুযোগ পেয়ে অনেক উপকার হলো।”
কৃষি পরামর্শ নিতে আসা ষাটোর্ধ্ব সফেদ আলী ও এনআইডি জটিলতায় থাকা রাশিদা বেগমও প্রশাসনের এই সেবা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাসভীর যোবায়ের বলেন, ‘সাধারণত মানুষ হাসপাতাল বা উপজেলায় গিয়ে সেবা নেয়। কিন্তু এখানে উপজেলার সব দপ্তর মানুষের এলাকায় এসে সেবা দিয়েছে—আমার চাকরিজীবনে এমন ঘটনা প্রথম দেখলাম।’
উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, গত বছর চালু হওয়া ‘প্রজেক্ট ওয়ান থাউজেন্ট’-এর আওতায় ১ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দাউদপুরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াশ নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পরিচালনা করেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয়। এ সময় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক বাশির উদ্দিন বাচ্চুসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘দাউদপুর একটি প্রত্যন্ত এলাকা। শারীরিক অক্ষমতা বা অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের কারণে অনেকের পক্ষে উপজেলা বা হাসপাতালে গিয়ে সেবা নেওয়া কঠিন হয়। এই চিন্তা থেকেই সব দপ্তরের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ভূমি অফিসের আলাদা বুথ বসানো হয়েছে।’
তিনি জানান, দাউদপুর দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় এই ধরনের সেবা কেন্দ্র চালু করা হবে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি সেবার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্বও কমেছে। স্থানীয়দের আশা, প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সারা দেশে অনুসরণ করা হবে।