বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬
সজ্জন রাজনীতিকের নতুন অধ্যায়
রাষ্ট্রপতি পদে যোগ্য মানুষ
বঙ্গভবনে একজন ভদ্র রাজনীতিকের আগমন
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ০)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের পরিচয় কেবল পদ-পদবি দিয়ে হয় না; তাঁদের পরিচয় তৈরি হয় দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, ব্যক্তিত্ব, আচরণ, সৌজন্য, শিক্ষা, ধৈর্য এবং মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার এক স্বতন্ত্র গুণে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তেমনই একজন মানুষ এ কথা আমি শুধু সংবাদপত্রের খবর পড়ে কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্য শুনে বলছি না; ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে কাছ থেকে দেখার এবং কথা বলার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। 

আজ তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ২১ আগস্ট বঙ্গভবনে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন। 

তাঁর এই নতুন দায়িত্বে আসীন হওয়ার মুহূর্তটি আমার কাছে শুধু একজন রাজনীতিকের পদোন্নতির ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত একজন পরিশীলিত, পরিমিতিবোধসম্পন্ন ও ভদ্র মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছে যাওয়ার এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমি কোনো দলের মানুষ নই। আমি রাজনীতি করি না। কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিতেও নেই। সাংবাদিকতা ও লেখালেখির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নেতার সঙ্গে কথা বলার, তাঁদের কাছ থেকে শোনার এবং তাঁদের আচরণ কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাই রাজনীতির মাঠে আমার নিজের কোনো পক্ষ নেই আছে শুধু মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার চেষ্টা। 

বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও কিছু মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্ন, সৎ, ভদ্র ও পরিশীলিত বলে মনে হয়। তাঁদের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে নয়, একজন মানুষ হিসেবে আমার আলাদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদেরই একজন। আজ তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

সাত আট বছর আগে একটি সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিকসহ বিএনপি কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনার সুযোগ হয়েছিলআমার। সেদিন সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়েছিল। 

পুরো আলোচনায় তিনি যে ধৈর্য, মনোযোগ ও সৌজন্যের পরিচয় দিয়েছিলেন, সেটি আজও আমার স্মৃতিতে স্পষ্ট। একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হয়েও সাংবাদিকদের কথা মন দিয়ে শোনা এবং ভিন্নমতকে ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণ করার সেই মানসিকতা আমার কাছে প্রশংসনীয় মনে হয়েছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর মধ্যে এক ধরনের সহনশীলতা লক্ষ্য করেছি। প্রশ্ন কঠিন হলেও তিনি শুনতেন। মতের অমিল হলেও উত্তেজিত না হয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ে অনেক রাজনীতিককে আমরা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেমে যেতে দেখি।

কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি অন্তত ব্যক্তিগতভাবে তেমন মানুষ হিসেবে দেখিনি। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেন, নাও হতে পারেন; তাঁর দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু একজন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর ভদ্রতা, নম্রতা ও পরিশীলিত আচরণকে অস্বীকার করার সুযোগ কম।

এরপর বিভিন্ন সময়ে তাঁকে যতবার দেখেছি সভা, মঞ্চ কিংবা বক্তৃতায় প্রতিবারই তাঁর আচরণ, কথাবলার ধরন ও পরিমিতিবোধ আমার ভালো লেগেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের জায়গা থেকে আমি তাঁকে মূল্যায়ন করছি না; বরং একজন মানুষ ও রাজনীতিক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিত্বের যে ভদ্র, মার্জিত ও পরিশীলিত দিকটি আমার চোখে পড়েছে, সেটিই আমার এই ভালো লাগার কারণ। 

রাজনীতি করি না, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততাও নেই। তবে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে যাঁদের ব্যক্তিগতভাবে পরিচ্ছন্ন, ভদ্র ও সজ্জন মনে হয়েছে, তাঁদের প্রতি আমার আলাদা শ্রদ্ধা রয়েছে। মহামান্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁদেরই একজন।

আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই জায়গাটিই আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মত থাকবে, বিরোধ থাকবে, তর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে কিন্তু ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থাকবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মানেই শত্রু নয়। 

বরং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, একই দেশের নাগরিক ভিন্ন মত পোষণ করেও পাশাপাশি থাকতে পারেন। এই জায়গায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিত্বের একটি ইতিবাচক দিক আমি সবসময় দেখেছি তিনি কঠিন রাজনৈতিক অবস্থান নিলেও ব্যক্তিগত সৌজন্যের জায়গাটি অনেক সময় ধরে রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর সেই গুণগুলোর গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। 

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি আর কোনো দলের নন তিনি পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তাঁর সামনে এখন শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নন; আওয়ামী লীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী দল, বামপন্থী দল, উদারপন্থী দল কিংবা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন কোটি কোটি নাগরিকও রয়েছেন। 

তাঁর কাছে যেমন রাজনৈতিক কর্মীর অধিকার গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাধারণ মানুষের অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির পদ তাঁকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় পরিচয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছে।

এই জায়গাটিই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন তাঁকে রাষ্ট্রের প্রতীকী অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। দলীয় রাজনীতির উত্তাপ থেকে বেরিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের শীতল ও ভারসাম্যপূর্ণ জায়গায় দাঁড়াতে হবে। 

সংবিধান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক মর্যাদার প্রশ্নে তাঁকে হতে হবে সবার আস্থার জায়গা। তিনি যদি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভদ্রতা ও পরিমিতিবোধকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা আরও অর্থবহ হতে পারে।

আমার কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়াটা তাই ব্যক্তিগতভাবে একটু অন্যরকম অনুভূতির। কারণ এটি এমন একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে যাওয়া, যাঁকে আমি বহু বছর আগে অন্য একটি পরিচয়ে দেখেছি। 

তখন তিনি ছিলেন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, আর আমরা সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আজ সময় বদলেছে, দায়িত্ব বদলেছে, তাঁর পরিচয় বদলেছে। কিন্তু মানুষের আসল পরিচয় তো শুধু পদে নয়, আচরণে। একটি পদ মানুষকে বড় করে না; বরং একজন মানুষের যোগ্যতা, সততা, ব্যক্তিত্ব ও আচরণ সেই পদকে মর্যাদা দেয়।

আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনীতিতে একটি নতুন ধরনের সৌজন্য দেখতে চায়। মানুষ চায় নেতারা কথা বলবেন, কিন্তু গালাগাল করবেন না। বিরোধিতা করবেন, কিন্তু অপমান করবেন না। সমালোচনা করবেন, কিন্তু বিদ্বেষ ছড়াবেন না। 

ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী থাকবেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সামনে রাখবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ব্যক্তিগত আচরণের যে দিকটি আমাকে দীর্ঘদিন আকৃষ্ট করেছে, সেটিই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি পদে বসা মানে শুধু বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি রাষ্ট্রের একটি নৈতিক প্রতীক হয়ে ওঠার দায়িত্বও। রাষ্ট্রপতির একটি কথা কখনো কখনো রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে। তাঁর একটি আচরণও মানুষের মনে রাষ্ট্র সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতে পারে। 

তাই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে সংযম, ভারসাম্য ও সাংবিধানিক মর্যাদা থাকা প্রয়োজন। একজন ভদ্র ও পরিশীলিত মানুষ হিসেবে যে পরিচিতি তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেছেন, রাষ্ট্রপতির পদে সেই পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করার সুযোগ তাঁর সামনে এসেছে।

আজ বাংলাদেশ নানা ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশা অনেক। রাজনৈতিক বিভাজনও কম নয়। এই সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এমন একজন মানুষের প্রয়োজন, যিনি বিভাজনের দেয়াল না বাড়িয়ে সেতু তৈরির চেষ্টা করবেন। 

যিনি মনে করবেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর দায়িত্ব কেবল তাঁকে ভোট দেওয়া মানুষদের প্রতি নয়, বরং ভোট দেওয়া-না দেওয়া সব নাগরিকের প্রতি। যিনি বুঝবেন, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য দলীয় আনুগত্যের চেয়ে বড়। সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় পছন্দের চেয়েও বড়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে আজ এই জায়গায় এসেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক থাকতে পারে, তাঁর দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের ভিন্নমত থাকতে পারে গণতান্ত্রিক সমাজে এগুলো স্বাভাবিক। 

কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তাঁর যে ভদ্রতা, নম্রতা ও পরিশীলিত আচরণ আমি দেখেছি, সেটিকে আলাদা করে মূল্যায়ন করতেই হবে। রাজনৈতিক মতের সঙ্গে ব্যক্তিগত চরিত্রকে এক করে দেখা উচিত নয়। একজন রাজনীতিকের সব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হয়েও তাঁর ব্যক্তিগত ভালো গুণের প্রশংসা করা যায়। বরং গণতান্ত্রিক সমাজে এটাই হওয়া উচিত।

আমি আবারও বলি, আমি রাজনীতি করি না। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা নই। কিন্তু রাজনীতিবিদদের মধ্যে যাঁদের পরিচ্ছন্ন, সৎ, ভদ্র ও পরিশীলিত বলে মনে হয়, তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। দল দেখে নয়, মানুষ দেখে। পদ দেখে নয়, আচরণ দেখে। বক্তব্যের চেয়ে অনেক সময় মানুষকে আমি তাঁর ব্যবহারে বিচার করি। সেই বিচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমার কাছে দীর্ঘদিন ধরেই একজন ভিন্ন ধরনের রাজনীতিক। তিনি সেই অল্প কয়েকজন রাজনীতিবিদের একজন, যাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক মতের সম্পর্ক না থাকলেও ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

আজ তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এই পদে তাঁর সামনে প্রত্যাশা যেমন অনেক, তেমনি দায়িত্বও অনেক। তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশা খুব সাধারণ তিনি যেন তাঁর পরিচিত সেই ভদ্র, বিনয়ী, পরিশীলিত মানুষটিকে হারিয়ে না ফেলেন। ক্ষমতা যেন তাঁকে মানুষের কাছ থেকে দূরে না সরায়। বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসে তিনি যেন আরও বেশি মানুষের হয়ে উঠতে পারেন। রাজনৈতিক জীবনে যে সংযত ভাষা ও সৌজন্যের পরিচয় তিনি দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেটিই যেন তাঁর বড় পরিচয় হয়।

রাষ্ট্রের জন্য শুধু শক্তিশালী মানুষ প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন সৎ মানুষ, প্রয়োজন জ্ঞানী মানুষ, প্রয়োজন অভিজ্ঞ মানুষ, প্রয়োজন ভদ্র মানুষ। ক্ষমতা পরিচালনা করতে শক্তি লাগে, কিন্তু ক্ষমতাকে মর্যাদাপূর্ণ করতে লাগে চরিত্র। রাষ্ট্রকে পরিচালনা করতে প্রতিষ্ঠান লাগে, কিন্তু রাষ্ট্রের মানুষের আস্থা অর্জন করতে লাগে মানবিকতা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন সেই সুযোগই এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি দলীয় রাজনীতির অতীত অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু দলীয় পরিচয়ের সীমারেখা পেরিয়ে সবার রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠবেন।

ইতিহাস শেষ পর্যন্ত শুধু কে কোন পদে ছিলেন তা মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে মানুষটি সেই পদে থেকে কী ধরনের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সামনে এখন সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করার সময়। আমার মতো একজন অরাজনৈতিক মানুষ, যিনি দূর থেকে রাজনীতিকে দেখেন এবং মানুষকে তাঁর আচরণ দিয়ে বিচার করেন, তাঁর কাছে প্রত্যাশা খুব বেশি কিছু নয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি যেন সবার কথা শোনেন, সবার মর্যাদা রক্ষা করেন, সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন এবং তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত ভদ্রতা ও মানবিকতাকে অটুট রাখেন।

তাহলেই হয়তো একদিন আমরা শুধু বলব না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন; বরং বলব বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি ছিলেন একজন ভদ্র, পরিশীলিত ও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাষ্ট্রনায়ক। আর একজন অরাজনৈতিক মানুষ হিসেবে তাঁর জন্য আমার শুভকামনা সেখানেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তিনি যেন তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়টি ধরে রাখেন।

লেখক: সাংবাদিক,কলামিস্ট

আজকালের খবর/এমকে









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft