বগুড়া শুধু একটি জেলা নয়, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার। এই বগুড়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ার কারণে দীর্ঘ ২০ বছর উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্খিত গতিতে এগোয়নি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার বগুড়াকে দেখেছে ভিন্ন চোখে। চাকুরী থেকে শুরু করে প্রতিটি পদে পদে বগুড়াকে বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। সেই বঞ্চিত বগুড়াকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে আলো ছড়াচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। বগুড়ার উন্নয়নে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বর্তমান সরকার জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় বগুড়াকে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কর্মসংস্থানসহ সব ক্ষেত্রেই বগুড়াকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কোনো একটি অঞ্চলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া নয়। বরং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করে সব জেলাকে সমানভাবে এগিয়ে নেওয়া। বগুড়ার ক্ষেত্রে অতীতের অবহেলার কারণে কিছু অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে জেলার উন্নয়ন জাতীয় গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
জানা যায়, বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের রাজধানী বলা হয়। অথচ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্খিত গতিতে এগোয়নি। বর্তমান সরকার সেই ঘাটতি পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারের উন্নয়ন দর্শনের আলোকে বগুড়ার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, শিল্প স্থাপন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করা। বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমান বাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া নতুন যুদ্ধবিমান এই ঘাঁটিতে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তুরস্কের সহযোগিতায় এখানে ড্রোন নির্মাণ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের তরুণদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় থাকা বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া পর্যন্ত প্রায় ৭২ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। এই রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় অনেক স্থানে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এসব অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে।
বগুড়ার মোকামতলা মীর শাহে আলম-ছাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান আতিক জানান, বগুড়ায় উন্নয়নে বঞ্চিত এলাকায় শূণ্যস্থান পূরুণে নিরলসভাবে কাজ করছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পিছিয়ে পড়া বগুড়াকে এগিয়ে নিতে চান তিনি। যে উন্নয়ন হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে। আমরা বেশি কিছু চাই না।
বগুড়া ২০ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বঞ্চিত উন্নয়ন ফিরিয়ে এনে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় যোগ করার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, আমরা চাই মানুষ যেন উন্নয়নের বাস্তব সুফল পায়। উন্নয়ন শুধু কাগজে-কলমে নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের তালিকায় বগুড়া শীর্ষে নয়। বরং আরও অনেক জেলা বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। আমরা বিশেষ সুবিধা চাই না।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা চাই। তিনি আরও বলেন, বগুড়ার উন্নয়ন শুধু একটি জেলার উন্নয়ন নয়। এটি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে জড়িত। তাই শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে সমন্বিত করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
লেখক- বাংলাদেশ প্রতিদিন এর বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া অফিস