এর আগে টানা দুই দিন অল্প সময়ের জন্য দেখা দিয়েই মেঘের আড়ালে লুকিয়ে ছিল রূপসী কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে আজ মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের পর থেকেই মেঘমুক্ত নীল আকাশে ডানা মেলে ধরেছে অপরূপ এই শ্বেতশুভ্র পর্বতমালা। চলতি মৌসুমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা সারাদিন ধরেই উপভোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আগত পর্যটকরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পেজে চলতি সপ্তাহে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হতে পারে— এমন খবর পেয়ে আগেই তেঁতুলিয়ায় হাজির হতে থাকেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকেরা। মঙ্গলবার সকালে উত্তর আকাশে চোখ মেলতেই তাঁদের সামনে ভেসে ওঠে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় রূপ। প্রথমবারের মতো এই দৃশ্য সরাসরি দেখতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক পর্যটক।
বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে আসা আব্দুল কাদের আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলেন, "কয়েক বছর ধরে শুনে আসছি অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। তবে আমরা তেঁতুলিয়ায় আসার পরদিনই এমন দৃশ্য দেখতে পেলাম। সকালে সূর্যোদয়ের পর এক ঝিলিক দেখা দিয়ে ঘন মেঘে ঢেকে গিয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই মেঘ কেটে আবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এরপর সারাদিনই আমরা দৃশ্যটি উপভোগ করেছি। মহানন্দার পাড়ে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।"
এদিকে শীতের আগমনীর সাথে সাথে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেতে কয়েক দিন ধরেই তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের সমাগম বাড়ছিল। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, ভারত সীমান্তঘেঁষা বিস্তীর্ণ সবুজ চা-বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক রূপ। অবশেষে মেঘ কেটে কাঞ্চনজঙ্ঘার স্পষ্ট রূপ দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত সকলেই।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, "আবহাওয়া অনুকূলে ও আকাশ সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত থাকায় আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অবশ্যই পূর্বাভাসের দিকে খেয়াল রেখে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা হতাশ না হন।"
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন জানান, "শীত মৌসুমে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটে। আগত পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব