
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় শরৎতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। দুই উপজেলার মণ্ডপগুলোতে এখন দিনরাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দুই উপজেলায় মোট ৫৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ধর্মপাশা উপজেলায় ২১টি এবং মধ্যনগর উপজেলায় ৩৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হবে। বর্তমানে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটির তৈরি দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের রূপ প্রায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙের প্রলেপ, পোশাক পরানো এবং নিখুঁত অলংকার সংযোজনের কাজ।
প্রতিমা শিল্পী সুকেশ পাল জানান, পূজা সামনে থাকায় তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। কাপড় ও অন্যান্য সাজসজ্জার উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন বেশিরভাগ প্রতিমার অলংকার ও সাজ মাটির মাধ্যমেই তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমার গড়ন ও কারুকার্যতেও ভিন্নতা এসেছে।
মধ্যনগর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার বলেন, ‘পূজাকে ঘিরে চারপাশে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও মন্দিরার তালে আরতি, গীতাপাঠ এবং ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হবে। নতুন পোশাকে সেজে ভক্তরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরবেন, বাড়িতে আসবেন আত্মীয়স্বজন।’
ধর্মপাশা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি যতীন্দ্র চন্দ্র সরকার জানান, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, ‘আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচল, নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয়ের ব্যবস্থা।’
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব