গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কুমার নদীর বুকে প্রকাশ্যে চলছে নদী হত্যার উৎসব। মহেশপুর ইউনিয়নের বালুগ্রাম দক্ষিণ পাড়ায় ফিরোজ মোল্লার বাড়ির সম্মুখে নদীর আড়াআড়ি মোটা বাঁশের বাঁধ দিয়ে অবৈধ সূতিজাল বসিয়ে রাতদিন চলছে দেশীয় মাছের গণহত্যা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রুদ্ধ হয়ে কুমার নদী এখন মৃতপ্রায়। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশীয় প্রজাতির মা মাছ ও পোনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নদী দখল ও মৎস্য নিধনযজ্ঞের মূলহোতা একই গ্রামের বালুগ্রাম পশ্চিম পাড়ার সিফারের ছেলে বিশু। বছরের পর বছর ধরে অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে তিনি কুমার নদীকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে এই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, প্রায় দুই বছর আগে জনরোষের মুখে কাশিয়ানী উপজেলা মৎস্য অফিস অভিযান চালিয়ে এই স্থানের অবৈধ বাঁধ ও ঘাতক সূতিজাল উচ্ছেদ করেছিল। কিন্তু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাস না পেরোতেই দ্বিগুণ শক্তিতে নদীর বুকে ফের মরণফাঁদ পাতেন । এবারের বাঁধ আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ ও সুদৃঢ়।
এই প্রকাশ্য অবৈধ কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখার নেপথ্যে রয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, এই অবৈধ বাঁধ টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী এবং নামধারী কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়মিত ম্যানেজ করে চলেন অভিযুক্ত । মাসোহারা নেওয়ার কারণেই তারা এই নদী বিধ্বংসী অপরাধ দেখেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী ক্ষোভের সাথে বলেন, "নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। এই ঘাতক সূতি জালে ডিমওয়ালা মা মাছ থেকে শুরু করে একেবারে ক্ষুদ্র পোনা পর্যন্ত আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। নদীটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। আর সাংবাদিকরা সুবিধা নিয়ে চুপ থাকে বলে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।"
মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে সূতি জাল স্থাপন একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রশাসনের এই নীরব দর্শকের ভূমিকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে মহেশপুর ইউনিয়নের সচেতন মহলে। অবিলম্বে এই অবৈধ মরণবাঁধ উচ্ছেদ করে নদীখেকো চক্র এবং এর পেছনের সুবিধাভোগী প্রভাবশালী মহলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন