
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ‘আগামীর সময়’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মামুনুর রশিদকে মারধর, গলা চেপে হত্যাচেষ্টা এবং টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। এর আগে গত শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ শিববাড়ী শহীদ মিনারসংলগ্ন চন্দনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বলরাম গ্রামের মোু. আব্দুল মজিদ মিয়ার ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন—বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব মিয়া (৩০), মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে সরফরাজ মিয়া (৩৮), আসাদুল মহুরির ছেলে মনির মিয়া (৩০) এবং মৃত খোকা মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (৩৮)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধান ব্যবসার সূত্রে রাকিব মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক মামুনুর রশিদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি রাকিবের ভাই তুহিন মিয়ার স্ত্রী নিখোঁজ হলে মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে তাকে নিয়ে দোষারোপ ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। পরে ওই নারী রংপুরে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিরাপদেই ছিলেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং এর জেরে সম্মানহানির মামলা করার কথা জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন মামুনুর রশিদ। এতে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।
ঘটনার দিন শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর মামুনুর রশিদ চন্দনের চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় রাকিব, সরফরাজ, মনির ও তুহিনসহ কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে দোকান থেকে বের করে মারধর শুরু করেন। এতে তার মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও মেরুদণ্ডসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে রাকিব মিয়া তার পকেট থেকে ধান ব্যবসার ৪০ হাজার টাকা এবং সরফরাজ মিয়া ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের আংটি খুলে নেন। পরে সরফরাজ তাকে শহীদ মিনারের পাকা দেয়ালে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং রাকিব গলা চেপে ধরেন। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার সাক্ষী সবুজ মিয়া ও চায়ের দোকানের মালিক চন্দন জানান, হামলাকারীরা মামুনকে জোর করে বাইরে নিয়ে মারধর করে এবং বাধা দিলে তাদেরও মারার হুমকি দেয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ জানান, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলায় তার ওপর এই হামলা চালানো হয়। এ সময় তার টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি সুন্দরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, সাংবাদিককে মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব