বুধবার ● ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জামালপুরে নিয়োগপত্রের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষক বঞ্চিতদের আমরণ অনশন
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ পিএম   (ভিজিট : ১১)
জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পেয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ৫১ জন বঞ্চিত প্রার্থী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন।

নিয়োগ বঞ্চিতরা জানান, জামালপুর জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৮৪ জনকে এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৮ সেপ্টেম্বর ১ জনসহ মোট ৮৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ধরনের আইনগত বা কাগজপত্রে জটিলতা না থাকার পরও বাকি ৫১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে তাদের বাদ দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আমরণ অনশনে বসেছেন। আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র না পেলে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শরিফপাড়া গ্রামের নিয়োগ বঞ্চিত শামীম ইয়াসমীন সুমি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার পরিবারে কোনো কর্মক্ষম ব্যক্তি নেই। বয়স্ক বাবা ও বেকার ভাইয়ের পাশাপাশি আমার ছোট বোন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে। একটি ছোট বাচ্চাও রয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এই বয়সে এসে যদি চাকরিটা না পাই, তবে আমার মরা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।"

মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালিকান্দি গ্রামের মুনতাজিল বিল্লাহ বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে আমি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। দীর্ঘ আট মাস ধরে আমাদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ কেন আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারিনি। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই স্থান ত্যাগ করব না।"

জামালপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের সোহেল আলম জানান, ফৌজদারি মামলা কিংবা আইনি কোনো জটিলতা বা কাগজপত্রে সমস্যা না থাকলেও কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাদের ৫২ জনের মধ্যে একজনকে পরে দেওয়া হলেও ৫১ জনকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাতেও তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

বঞ্চিত প্রার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান নেওয়ায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান অফিসে উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন এবং বঞ্চিতদের সমস্যা সমাধানের জন্যই কাজ করছেন। তিনি বলেন, "কার কোন বিষয়ে কী সমস্যা হয়েছে তা আমি এখনো জানি না। আমি এখন কাজে ব্যস্ত আছি, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করি ভালো কিছু হবে।"


আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব






আরও খবর


Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft