নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পৌরশহরে চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের অপকর্ম আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মোহনগঞ্জবাসীর দৈনন্দিন জীবন চরম আতঙ্কের মধ্যে কাটছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট গভীর রাতে শহরের জেবি মার্কেটের ‘মাষ্টার ফার্মেসী’ থেকে ১৫-১৬ লাখ টাকার ঔষধ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর পরদিনই ১১ আগস্ট পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন ‘মিঠু টেলিকম’-এ চুরির ঘটনা ঘটে, যা উক্ত প্রতিষ্ঠানে চতুর্থবারের মতো চুরির ঘটনা। এরপর ১৪ আগস্ট রাতে বাখরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে মূল্যবান আসবাব ও সামগ্রী লুট করা হয়। ১৬ আগস্ট রাতে মান্দারুয়া গ্রামের সুরেল আলমের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গবাদিপশু (২টি ষাঁড় ও ১টি বকনা গরু) চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
ধারাবাহিক চুরির পাশাপাশি শহরের পোস্ট অফিস রোডে চালের টিন কেটে ‘রূপন শিল্পালয়’ ও ‘প্রতিমা জুয়েলার্স’ নামের দুটি স্বর্ণের দোকানে একযোগে চুরির ঘটনা ঘটে।
চুরির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ছিনতাই ও আক্রমণের ঘটনা। গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের শেখ বাড়ী টাওয়ার সংলগ্ন রাস্তায় মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রফিকুজ্জামান ইদ্রিছীকে পথ আটকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় ওঠে।
মাদকসেবী ও অপরাধীদের ভয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। মাইলোড়া গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ৮-১০ জন দল বেঁধে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। দিনদুপুরেও ছিনতাইকারীর ভয়ে দামি স্মার্টফোন নিয়ে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, এলাকা জুড়ে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। তিনি বলেন, "ঔষধের দোকানের চুরির ঘটনাটিই সবচেয়ে বড় ছিল এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩ জন পাহারাদারকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।"
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব