বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা। দীর্ঘ এক বছর ধরে পদটি শূন্য থাকায় সপ্তাহে মাত্র দুই দিন প্রেষণে আসা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম।
রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার ২৩৬টি মৌজায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি দলিল জমা হয়। অথচ গত ১৫ দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি দলিল জমা পড়লেও রহস্যজনক কারণে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৪৫০টি। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা সিদ্দিকা সপ্তাহে কেবল বুধবার ও বৃহস্পতিবার অফিস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সকালে অফিস শুরু হলেও তিনি আসেন দুপুরে এবং কয়েকটি দলিলের কাজ শেষ করেই চলে যান। এতে দিনের পর দিন শত শত মানুষ ভোর থেকে অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
শুধু তা-ই নয়, একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে জিম্মিদশার সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী যাবতীয় খরচ পরিশোধের পরও দ্রুত কাজ সম্পন্ন বা সিরিয়াল আগে পাওয়ার নামে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।
এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও দীর্ঘ অপেক্ষায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে ক্যানসার আক্রান্ত স্বজনের চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করতে না পারা যোবায়ের হোসেন ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাবিবুল্লাহ রহমানসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, কর্মকর্তার অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে জমি রেজিস্ট্রি আটকে আছে, ফলে জরুরি আর্থিক ও চিকিৎসা সেবা থমকে গেছে।
ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেষণে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা সিদ্দিকা জানান, এটি তাঁর মূল কর্মস্থল নয়। শত শত দলিলের তথ্য ও কাগজপত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। তিনি মনে করেন, শেরপুরে একজন নিয়মিত ও পূর্ণকালীন সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন করা হলেই কেবল এই জট ও ভোগান্তি দূর হওয়া সম্ভব।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব