নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া-কালনা ফেরীঘাট সড়কের দুই পাশ দখল করে একের পর এক অবৈধ বালুর চাতাল গড়ে উঠেছে। প্রশাসনের নিরবতায় দিনের পর দিন সড়ক দখল, পরিবেশ ধ্বংস ও জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় চলছে এ দখলদারিত্ব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কালনা ফেরীঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে অন্তত ৮ থেকে ১০টি বালুর চাতাল গড়ে উঠেছে। কাগজের সীমানা ছাড়িয়ে বাস্তবে চাতালগুলো সড়কের শোল্ডার পর্যন্ত চলে এসেছে। এমনকি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল এবং বন বিভাগের গাছের গোড়া খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। মাটির অতিরিক্ত কাটাকাটিতে সড়কের পাশের বেশ কিছু গাছের শেকড় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাতালের কারণে অন্তত ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ার মাটি সরে গেছে, যার মধ্যে ৫টি খুঁটি বিপজ্জনকভাবে ১৫-২০ ডিগ্রি কোণে হেলে আছে। ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেকোনো সময় এসব গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একাধিকবার সতর্ক করা হলেও চাতাল মালিকরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব চাতাল পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে আলোচিত শিশু মাহাফুজ হত্যা মামলায় ফাঁসির রায়প্রাপ্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি জামাল শেখের গা ঢাকা দেওয়ার পর বর্তমানে তাঁর ছেলে দিহান এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে দিহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমরা এভাবেই ব্যবসা করে আসছি এবং সবাই এভাবেই করে।"
এদিকে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভাটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার সহস্রাধিক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। দিনরাত অতিরিক্ত বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাক ও ট্রলি চলাচলের কারণে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। বর্ষায় এসব গর্তে পানি ও বালু জমে হাঁটু পর্যন্ত কাদা হয়ে যাতায়াত প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়।
ভাটিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলে, "স্কুলে যেতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে বালুর কারণে রাস্তা কাদা হয়ে যায়, আমরা দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৬ মাসেও প্রশাসনের কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত খালের সংযোগ ও সড়কের সীমানা অবমুক্ত না করলে বড় ধরনের সড়ক ধস ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব