কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দেওয়া এবং প্রবাসে নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন স্থানীয় আবু তাহের শাহ্ এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত তাঁর দুই ছেলে তুহিন ও তপন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টায় দৌলতপুর উপজেলা বাজারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগীরা তাঁদের আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে ৫ লাখ থেকে প্রায় পৌনে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়। মানিকদিয়াড় গ্রামের মতিউর রহমান, গোপীনাথপুর গ্রামের বিজয় হোসেন এবং একই গ্রামের কবির হোসেনের মা মাবিয়া খাতুন অভিযোগ করেন—সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাঁদের কাঙ্ক্ষিত কাজ না দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। ফলে তাঁরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী শাকিল আহমেদ জানান, তাঁর বোনের স্বামী রুবেল হোসেনকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি পাঠায় এই চক্র। কিন্তু সেখানে তাঁকে কাজ না দিয়ে নির্যাতন করা হলে তিনি জীবন বাঁচাতে আত্মগোপন করেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে অভিযুক্ত আবু তাহের শাহ্ উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত দুই ছেলে তুহিন ও তপন সেখান থেকে এই প্রতারণা চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন, আর দেশে থেকে তাঁদের বাবা আবু তাহের টাকা সংগ্রহ করেন। জমিজমা বিক্রি ও ভিটেমাটি বন্ধক রেখে টাকা দিয়ে নিঃস্ব হওয়া এসব পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
নতুন করে যেন কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব