তৈরি পোশাকশিল্পে বহিরাগত ইন্ধন ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতা রুখে উৎপাদন সচল করার ওপর জোর দিয়েছেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কোনো ধরণের উসকানিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, সরকার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করে জানুয়ারি থেকে তা কার্যকরের সব প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে গাজীপুর ক্লাবে গাজীপুর জেলা সম্মিলিত শিল্প ও শ্রমিক সংগঠনসমূহ আয়োজিত তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শিল্প ও শ্রমিকের দাবি, নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টানা কয়েক দিনের আন্দোলন ও অস্থিরতার পর বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানান রনি। তিনি বলেন, শ্রমিকেরা যেভাবে কাজে ফিরে এসেছেন, তা ইতিবাচক। শিল্পের স্বার্থে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে হবে। শ্রমিকদের কর্মস্থল কারখানা, রাজপথ নয়। কারখানা সচল থাকলে শিল্প বাঁচবে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, গার্মেন্টসশিল্পের চলমান আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন ঢুকে পড়েছে। তারা সাধারণ শ্রমিকদের ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চলে নৈরাজ্য, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, প্রকৃত সাধারণ শ্রমিকেরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চান না। একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের ব্যবহার করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে রনি বলেন, কোনো উসকানি বা প্ররোচনায় শিল্পকারখানার ক্ষতি করা যাবে না। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির পক্ষে রয়েছে। শিল্পকারখানা শ্রমিকদেরও সম্পদ। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে এ শিল্প রক্ষা করতে হবে।
নতুন মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে রনি বলেন, মজুরি বোর্ডের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা সেই মজুরি পাবেন। শ্রমিকদের অন্যান্য যৌক্তিক দাবিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
গার্মেন্টসশিল্পকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রনি বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের সূচনা করেছিলেন। তাই এ শিল্প রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কোনো ধরনের নাশকতা বা উসকানিতে শিল্পের ক্ষতি করা যাবে না।
শ্রমিকদের আবাসন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বল্প ব্যয়ে শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গাজীপুরে শ্রমিকদের জন্য শ্রমিক ভবন নির্মাণের দাবিও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরবেন তিনি। শ্রমিকদের উন্নয়ন ও কল্যাণে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করার আশ্বাস দেন রনি।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের পর সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। সবকিছু গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাই শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে সরকার রয়েছে। তাদের কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন সম্রাটের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা তমিজ উদ্দিন তনু, শফিউল আলম, আজিজুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, বিএনপি নেতা আহমদ আলী রুশদি প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র হাসান আজমল ভূঁইয়া, মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আকম মোফাজ্জল হোসেন ও জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব মাহমুদ হাসান রাজু, সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল এবং মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আজকালের খবর/বিএস