রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় মো. সাদ্দাম মিয়া (২৭) নামে একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজবাড়ীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাদ্দাম মিয়া পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর (দক্ষিণ-পশ্চিম) গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার ছেলে। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- পলাশ মণ্ডল, রাসেল ও শরীফ মুন্সি।
আদালতের রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, নিহত আব্দুর রহিম মোল্লার ভাই রহমান মোল্লাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে আসামিরা তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু চাকরি না হওয়ায় রহিম টাকা ফেরত চাইতে থাকেন। এর জেরে ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে তাকে পাংশা পৌর শহরের কলেজপাড়ার চাচার ক্যান্টিনের সামনে ডেকে নেয়া হয়।
সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাদ্দাম মিয়া ডেগার দিয়ে রহিমের তলপেটের বাম পাশে আঘাত করেন। এতে তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এ সময় তার বাম উরুতেও উপর্যুপরি কোপানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ নভেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না বেগম ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর পাংশা থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
রাজবাড়ী আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক-২ বলেন, দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
আজকালের খবর/রাশেদুল মিলন