পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ইটভাটা না থাকায় নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়নকাজে ইটের চাহিদা থাকলেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরের জেলা থেকে ইট আনতে হচ্ছে চড়া দামে। এতে পরিবহন ব্যয়সহ সামগ্রিক নির্মাণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, বান্দরবানে উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের পরিধি বাড়লেও প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীর সহজলভ্যতা নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে ইটের জন্য অন্য এলাকার ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় সাধারণ মানুষকে আর্থিক চাপ সামলাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
এদিকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সামনে রেখে জেলায় ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ না থাকলেও স্থানীয়ভাবে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাদের মতে, পরিবেশের ক্ষতি না করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এ খাতের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালক, মাঝেরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছ সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও কেরানীহাট এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয় পাহাড় ও বনাঞ্চলের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বান্দরবানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে পাশের এলাকার ইটভাটায় উৎপাদন করা হলেও সেই ইটই আবার বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে কেন? পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের নির্মাণ ব্যয় কমানো এবং উন্নয়নকাজের গতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজকালের খবর/বিএস