
পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে মাছ শিকারের ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসব। পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে মাছ ধরার এ আয়োজন। উৎসবকে ঘিরে বিলগুলোতে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার শত শত সৌখিন মৎস্যশিকারি।
চাটমোহর উপজেলার রামের বিল, খলিশাগাড়ি বিল, ডিকশি বিল, বিলকুড়ালিয়া, গুমানী ও চিকনাই নদীসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন বিলে চলছে মাছ ধরার এ উৎসব। স্থানীয় ভাষায় মাছ শিকারের এ আয়োজনকে বলা হয় ‘বাউৎ উৎসব’।
সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার নির্দিষ্ট বিলে বাউৎ নামেন মৎস্যশিকারিরা। ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে তাঁরা বিলে হাজির হন। এরপর আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে আল্লাহ ও রাসুলের নাম নিয়ে নেমে পড়েন পানিতে। তাঁদের হাতে থাকে মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী পলো। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়েও মাছ শিকার করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ এ উৎসবে অংশ নেন।
চাটমোহর উপজেলার খলিশাগাড়ি ও আফরার বিলেও চলছে মাছ ধরার এ আয়োজন। চাটমোহর, ভাঙ্গুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক শ মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। মৎস্যশিকারিদের ধারণা, আগামী এক মাস ধরে চলবে এ উৎসব।
উৎসবে অংশ নেওয়া সৌখিন মৎস্যশিকারি আমের আলী জানান, বাউৎ উৎসবে বোয়াল, শোল, রুই, ঝকাতলাসহ নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর চলনবিল অঞ্চলের নদী ও বিলে কার্তিক, অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে বাউৎ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় আগেভাগেই মাছ ধরার আয়োজন শুরু হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকলেও পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাপকভাবে মাছ শিকারের ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অসংখ্য ছোট মাছ মারা যাচ্ছে, যা জলজ পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক।
চাটমোহর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আ. মতিন বলেন, বাউৎ উৎসব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তবে এ আয়োজনের কারণে বিলের জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসবের আনন্দ ধরে রাখার পাশাপাশি দেশি মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব