
লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যুবদলকর্মী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে ইব্রাহিম খলিল ছুট্টু এবং বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ও রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে মাসুদ রানা।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে দিলশাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে খোরশেদ আলম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে খোরশেদ আলমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি দিলশাদপুরে নেওয়া হলে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার। জ্ঞান ফিরলে তিনি স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মাটির ব্যবসাই তাঁর স্বামীর কাল হয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
নিহতের মেয়ে প্রেমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দুপুরে বাড়ির সামনে দিয়ে একটি নারকেলবোঝাই গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়ির পেছনে হেঁটে তাঁর বাবা বাড়িতে ফেরেন। এ সময় মোরশেদ আলম, মজিদ হোসেন, বাচ্চু ও হিরু তাঁর বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ির পাশে নিয়ে তাঁর বুকে তিনটি গুলি করা হয়। গুলির শব্দ শুনে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে গিয়ে বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। প্রেমার দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বাবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তারপরও পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে তানভীর হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মাটির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে তাঁর বাবাকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তানভীর।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খোরশেদ আলম বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ব্যবসা করতেন। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে মাটি কিনে ইটভাটায় বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মাটির ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা তাঁদের। তবে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের স্ত্রী আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, মাটির ব্যবসা নিয়ে খোরশেদ আলমের সঙ্গে মোরশেদ আলম ও মজিদ হোসেনের বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুরে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়ির পাশে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব