
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুন্দরবন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অংশ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে অপার সম্ভাবনা সত্ত্বেও সুন্দরবনের পর্যটন খাত এখনও অনেকটাই সীমিত পরিসরে রয়েছে। বছরের মাত্র চার-পাঁচ মাস পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বাকি সময় বনাঞ্চল অনেকটাই পর্যটকশূন্য থাকে, যা এই খাতের বিকাশে বড় বাধা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যুর অপারেটরদের মতে, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত থাকায় বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি কমে যায়। এই সুযোগে অসাধু চক্র বিষ প্রয়োগসহ নানা অবৈধ উপায়ে মাছ ও বন্যপ্রাণী শিকারে জড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, পর্যটন কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে সারা বছর চালু রাখা গেলে বনে মানুষের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়বে। পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতিতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। বিশ্বের অন্যান্য বড় বনাঞ্চল যেমন আমাজনের আদলে সুন্দরবনকেও নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে সারা বছর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অনন্য এই ম্যানগ্রোভ বনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারলে পর্যটন খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ নৌযান নিশ্চিতকরণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন সুবিধা, প্রশিক্ষিত গাইড ও দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রচারণা।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের যথাযথ প্রসার ঘটলে নৌযান মালিক, হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড এবং স্থানীয় কুটিরশিল্প ও পণ্য বিক্রির সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এর মাধ্যমে কেবল স্থানীয় অর্থনীতি নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে একে একটি টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ চান ট্যুর অপারেটর ও পর্যটকরা। সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সুন্দরবনকে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব