রংপুরের পীরগাছায় পূর্বশত্রুতার জেরে পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট ছিটিয়ে প্রায় ১৫ মণ মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষি দুজনকে অভিযুক্ত করে পীরগাছা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী সাহেব উদ্দিনের দাবি, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের সোনারায় এলাকায়। অভিযুক্তরা হলেন—একই এলাকার মৃত আলী আহম্মদের ছেলে মাহমুদ জিয়াউল ও তাঁর স্ত্রী শরিফা খাতুন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সাহেব উদ্দিনের বাড়ির পাশের ৪৪ শতক জমিতে একটি পুকুর রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত মাছ চাষ করে আসছেন। জমিজমাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও প্রায় চার বছর আগে ওই পুকুরে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল, যা পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়।
ভুক্তভোগী সাহেব উদ্দিন জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে মারধর ও একইভাবে পুকুরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলার অভিযোগে তিনি পীরগাছার আমলি আদালতে একটি সিআর মামলা (নম্বর- ৩৭১/২৬) দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মামলা করার পর থেকেই অভিযুক্ত জিয়াউল তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
পূর্বের ধারাবাহিকতায় গত বুধবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুমানোর একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পুকুরপাড়ে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করেন। ভোরে ঘুম থেকে জেগে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি পুকুরের পানিতে মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখেন। তাঁর দাবি, এভাবে প্রায় ১৫ মণ মাছ মারা গেছে। সকালে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাঁরা তাঁকে গালিগালাজ, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভুক্তভোগী কৃষক এ ঘটনার সুষ্পষ্ট তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মাহমুদ জিয়াউল তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, "পূর্বশত্রুতা ও মামলাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমাকে ফাঁসাতে ও হয়রানি করতে এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুকুরে মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি আংশিক সত্য হলেও সব মাছ মারা যায়নি, কেবল কয়েকটি সিলভার কার্প মাছ মারা গেছে।"
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব