মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ও দেশের অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি আড়িয়ল বিলকে রক্ষায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারির পরও থামছে না জলাশয় ও কৃষিজমি ভরাট। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে ভরাট করা হচ্ছে আড়িয়ল বিলের জলাশয় ও কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর মাটি।
সরজমিনে দেখা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার পশ্চিম বাড়ৈখালী দক্ষিণহাটি খালে ড্রেজার বসিয়ে পূর্বদিকে একটি বড় জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে উপজেলা ভূমি অফিস একবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ নষ্ট করে দিলেও তাতে কর্ণপাত করছে না ভরাট চক্রটি।
আড়িয়ল বিলের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে বাড়ৈখালী এলাকার ১ একর ৭ শতাংশ আয়তনের গভীর জলাশয়ের প্রায় অর্ধেক ভরাট করা হয়েছে। বাকী অংশ ভরাটের কাজ চলছে। প্রতিরাতে বাল্কহেডে আসা বালু রাতভর উত্তোলন করা হচ্ছে নির্বিঘ্নে।
স্থানীয়রা জানান, ড্রেজারের শব্দে আশপাশের বাড়িতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ভোগান্তির পাশাপাশি রাতে ঘুমানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। ওই এলাকার মো. রমজান নামে এক ব্যক্তি এই জলাশয়টি ভরাট করছেন। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি বাড়ৈখালী এলাকার আজাদ দেওয়ান ও বালু ব্যবসায়ী মো. মকবুল হোসেন।
আজাদ দেওয়ান বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছিল ভূমি অফিস থেকে ভরাটের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভূমি অফিস ড্রেজারের পাইপ উচ্ছেদ করে দেওয়ার পর থেকে আমি আর একাজের সাথে সম্পৃক্ত নেই। এটা এখন মো. মকবুলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মকবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে তিনি রাতে ভরাট হওয়া মাটির ঘনফুট মেপে দেন মাত্র। এর বাইরে তার কোন হাত নেই।
বাড়ৈখালী ব্রিজ সংলগ্ন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে এক দিকে ড্রেজারে চলে বালু ভরাট। অপরদিকে কৃষি জমির মাটি কেটে ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায়। সেখানে উপস্থিত এক কলেজ ছাত্র জানান, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বালু ভরাটকারী মো. রজমান শেখ বলেন, আমি ভরাটের অনুমোদনের জন্য উপজেলায় আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও অনুমুতি দেননি। তাহলে জলাশয় ভরাট করছেন এমন প্রশ্নে তিনি এড়িয়ে যান।
বাড়ৈখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, একবার এখানে অভিযান চালানো হয়েছিল। এখন যেহেতু আবার চালু করেছে বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন অফিসারকে জানাবো। তারা যে সিদ্ধান্ত দেয় তা বাস্তবায়ন করবো।
এই বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
আজকালের খবর/বিএস