
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৫৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩১ জন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৭১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ১ হাজার ৫৭০ জনের বেশি (১,৫৭২ জন) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ১৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (৩৮ জন)। এছাড়া ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩ জন এবং কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যান্য উপজেলার মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন, বাজিতপুরে ৭ জন, হোসেনপুরে ৬ জন, করিমগঞ্জে ৫ জন, তাড়াইলে ৪ জন, পাকুন্দিয়ায় ৩ জন, নিকলীতে ৩ জন এবং কটিয়াদীতে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন। পাশাপাশি বেসরকারি জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ফারুক বলেন, “কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা অনুভব করছিলাম। পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন, দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি লাগছে।”
রোগীর স্বজন সালমা বেগম বলেন, “জ্বরের পর প্রথমে বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারি গাইডলাইন ও প্রটোকল অনুযায়ী রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। তিনি জ্বর বা শরীর ব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোর এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন না করার পরামর্শ দেন।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং জ্বর হলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার বিকল্প নেই।”
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব