লক্ষ্মীপুর জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সুফল পেতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। গত চার মাসে (মে-আগস্ট ২০২৬ ইং) জেলায় মোট ১৮০২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১১৪৭টি মামলা, যার নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ। এই সময়ে ভুক্তভোগীদের অনুকོলে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এছাড়া মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৪১ শতাংশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আয়োজনে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সম্রাট খিসার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এহসানুল হক। গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক খন্দকার আবেদ উল্যার পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা জোবেদা খানম, জেলা তথ্য অফিসার বিশ্বনাথ মজুমদার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, গ্রাম আদালতের বিষয়ে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। গ্রামে ঘটে যাওয়া ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে জেলা সদরে এসে মামলা করলে মানুষের অর্থ ও সময় অপচয় হয়। অথচ গ্রাম আদালতে মামলা করলে খরচ ও সময় বাঁচে এবং তিন মাসের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সাধারণ মানুষ যেন এই সেবার সুফল পায়, সে জন্য ইতিমধ্যে গ্রাম আদালতগুলো সক্রিয় করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অনেক ইউনিয়নে সরকারি অর্থায়নে এজলাসও স্থাপন করা হয়েছে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব