
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আলোচিত সানি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্যোগে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পৌর সদর বাজার প্রদক্ষিণ করে পাকুন্দিয়া থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে থানার সামনে সানি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা চলে যান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত সানির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার, তার দুই শিশুসন্তান তালহা ও তারিফ, নিহতের মা পারভীন আক্তার, চাচা নুরুল ইসলাম, আব্দুল আওয়াল, মামাতো ভাই জসীম উদ্দিন আপেলসহ স্থানীয় শতাধিক মানুষ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত সানির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের মফিজুল, নজরুল, আজিজুল ও মকবুলসহ কয়েকজন মিলে তার স্বামী সানিকে সুপরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করে। পুলিশ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও প্রধান আসামি ছাড়া বাকি তিনজন ইতোমধ্যে জামিনে বেরিয়ে গেছে। জামিনে মুক্ত হয়ে আসামিরা নিহতের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে এবং নিহতের ছোট ভাইকে হত্যার ভয় দেখাচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রভাবশালী আসামিরা ৩০ লাখ টাকায় জমি বিক্রি করে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মাত্র একজনের নামে চার্জশিট দেওয়ার মতো নীল নকশা আঁকছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া আসামিরা জামিনে বের হয়ে নিহতের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের হিজলিয়া গ্রামের কাতারপ্রবাসী হাদিউল ইসলামের ছেলে সানিকে (২২) পূর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, জামিনে বের হয়ে বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি জানার পর তিনি বাদীকে জামিন বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনেরও আশ্বাস দেন ওসি।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব