রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টঙ্গীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, কারাগারে শিক্ষক
প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ পিএম   (ভিজিট : ৩)
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ কারাগারে রয়েছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এর আগে আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে। শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি এসব অভিযোগও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়ার একটি মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কিছু বলেনি সে। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে ঘটনার কথা খুলে বলে শিশুটি। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

শিশুটির বাবার করা মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন গাজীপুর মহানগর হাকিম আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। শনিবার দুপুরে তদন্তের অংশ হিসেবে মাদ্রাসায় গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

এদিকে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ তুলেছে কর্তৃপক্ষ। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। তার দাবি, মেয়ের প্রতি যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। ভাঙচুর কিংবা টাকা নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মেয়ের প্রতি নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

শিশুটির প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা ও অভিযুক্তের দায় আদালতে নির্ধারিত হবে। একইভাবে, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং অর্থ লুটের অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

আজকালের খবর/ এমকে









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft