শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিযোগিতা নয়, প্রয়োজন ‘আমরা’র মানসিকতা
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম   (ভিজিট : ১৭)
বাঙালির সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত তার রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, তার মানসিক কাঠামোয়। একই ভাষায় কথা বলি, একই ভূখণ্ডের ইতিহাস বহন করি, একই নদী-প্রকৃতি-সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী; অথচ মানসিকভাবে আমরা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। আমাদের সামাজিক জীবনে এমন এক প্রবণতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে পথ চলার  চেয়ে এককভাবে এগিয়ে যাওয়াকে বেশি কাঙ্ক্ষিত মনে হয়। অন্যের সাফল্যকে নিজের সম্ভাবনার বিস্তার হিসেবে দেখার পরিবর্তে অনেক সময় আমরা সেটিকে নিজের ব্যর্থতা বা পরাজয় হিসেবে অনুভব করি। ফলে সহযোগিতার জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্রতিযোগিতা, সহমর্মিতার জায়গায় স্থান পাচ্ছে ঈর্ষা, আর সমষ্টির জায়গায় প্রবল হচ্ছে ব্যক্তিস্বার্থ।

এই মানসিকতার সংকটটি বাহ্যিকভাবে খুব সহজে ধরা পড়ে না। কারণ আমরা সামাজিক মানুষ—পরিবার করি, সংগঠন করি, রাজনৈতিক দল করি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করি, পেশাজীবী সংগঠন করি, নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিই। কিন্তু একত্রিত হওয়া আর সমষ্টিগত চেতনা ধারণ করা এক বিষয় নয়। একই জায়গায় অনেক মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তাদের প্রত্যেকের লক্ষ্য যদি কেবল নিজের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়, তবে সেই সমাবেশ কখনো প্রকৃত সমষ্টিতে পরিণত হয় না। সমষ্টি তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ব্যক্তির স্বার্থ বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মানুষ উপলব্ধি করে—অন্যের কল্যাণের মধ্যেই তার নিজের কল্যাণের একটি অংশ নিহিত।

জাতি হিসেবে আমাদের সংকটের একটি বড় উৎস এখানেই। আমরা নিজেদের স্বার্থকে বৃহত্তর সমাজের স্বার্থ থেকে পৃথক করে দেখতে শিখেছি। রাষ্ট্র আমার—এই বোধের পরিবর্তে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, রাষ্ট্র আমাকে কী দিয়েছে। প্রতিষ্ঠান আমার—এই চেতনার পরিবর্তে প্রশ্ন, প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কী পেলাম। সমাজ আমার—এই দায়বোধের পরিবর্তে প্রশ্ন, সমাজ আমার জন্য কী করেছে। অর্থাৎ ‘আমরা কী নির্মাণ করলাম’ প্রশ্নটি ক্রমেই গৌণ হয়ে ‘আমি কী পেলাম’ প্রশ্নটি।

এই ‘আমি কী পেলাম’ মানসিকতা কেবল ব্যক্তিজীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্রের চরিত্রকেও প্রভাবিত করে। যখন প্রত্যেকে নিজের প্রাপ্তিকে প্রধান মনে করে, তখন দায়িত্ববোধ সংকুচিত হয়। অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠতা বাড়ে, কিন্তু কর্তব্যের প্রশ্নটি আড়ালে চলে যায়। প্রত্যেকে সুবিধা চায়, কিন্তু সুবিধা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ত্যাগ করতে চায় না। প্রত্যেকে পরিবর্তন চায়, কিন্তু পরিবর্তনের মূল্য দিতে চায় না। ফলে আমরা পরিবর্তনের দাবি করি, অথচ নিজেদের আচরণে পুরোনো সংস্কৃতিই বহন করে চলি।

রাজনীতিতে এই মানসিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিফলন সবচেয়ে প্রকট। রাজনীতি মূলত সমাজের বিভিন্ন মত, স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষাকে সমন্বয় করার একটি প্রক্রিয়া হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নীতির চেয়ে ব্যক্তি, আদর্শের চেয়ে গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রের চেয়ে দলকে বড় করে দেখার প্রবণতা প্রবল। ফলে মতভেদ সহজেই শত্রুতায় রূপ নেয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আর প্রতিপক্ষ থাকে না; সে হয়ে ওঠে শত্রু। তার যুক্তি শুনতে হয় না, তাকে পরাজিত করাই যেন একমাত্র লক্ষ্য।

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো ভিন্নমতের সহাবস্থান। গণতন্ত্র কখনোই এই দাবি করে না যে সবাই একই কথা বলবে। বরং গণতন্ত্রের শক্তি হলো—ভিন্ন মানুষ ভিন্ন মত পোষণ করেও একই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সহাবস্থান করতে পারে। কিন্তু যখন আমরা নিজের মতকে একমাত্র সত্য এবং অন্যের মতকে অপরাধ হিসেবে দেখতে শুরু করি, তখন গণতন্ত্রের প্রাণটাই শুকিয়ে যায়। তখন নির্বাচন থাকে, দল থাকে, বক্তৃতা থাকে, মিছিল থাকে—কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি থাকে না।
এই মানসিকতার আরেকটি ভয়াবহ পরিণতি হলো—আমরা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য করতে ভুলে যাই। কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে আমরা তার প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র দিয়ে বিচার না করে ব্যক্তির সঙ্গে একীভূত করে ফেলি। ফলে ব্যক্তি পরিবর্তিত হলে প্রতিষ্ঠানও আমাদের কাছে শত্রু বা মিত্র হয়ে যায়। অথচ একটি সুস্থ সমাজে প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির ঊর্ধ্বে থাকে। ব্যক্তি আসে, ব্যক্তি যায়; কিন্তু প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে নীতি, নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার ওপর।
ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এই মানসিক বিচ্ছিন্নতা একটি জটিল রূপ ধারণ করতে পারে। ধর্ম মানুষের আত্মশুদ্ধি, ন্যায়বোধ, সংযম, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণের পথ দেখানোর কথা। ইহকাল ও পরকালের ধারণার মূল উদ্দেশ্যও মানুষকে তার কাজের নৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা। কিন্তু যখন পরকাল কেবল ব্যক্তিগত মুক্তির হিসাব হয়ে ওঠে এবং ধর্মীয় পরিচয় মানুষের আত্মপরিচয়ের একমাত্র ভিত্তিতে পরিণত হয়, তখন ধর্মের নৈতিক সারবস্তু ক্রমশ পিছিয়ে যেতে পারে।

তখন একটি গভীর বৈপরীত্য তৈরি হয়—ধর্মীয় পরিচয় প্রবল, কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধ দুর্বল। বাহ্যিক আচার বাড়ে, কিন্তু আত্মসংযম কমে। ধর্মের ভাষা উচ্চকিত হয়, কিন্তু সহিষ্ণুতা সংকুচিত হয়। পরকালের ভয় প্রবল হয়, কিন্তু ইহকালের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ দুর্বল হয়ে পড়ে। মানুষ ধর্মের পরিচয় বহন করে, কিন্তু ধর্মের নৈতিক শিক্ষা নিজের আচরণে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়।

এই জায়গাটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উগ্রবাদ হঠাৎ জন্ম নেয় না। তার আগে জন্ম নেয় অসহিষ্ণুতা। অসহিষ্ণুতার আগে জন্ম নেয় নিজের সত্যকে একমাত্র সত্য মনে করার প্রবণতা। আর তারও আগে থাকে ‘আমি’ ও ‘আমরা’র মধ্যে একটি গভীর বিচ্ছেদ। যখন মানুষ নিজের বিশ্বাস, পরিচয় বা মতকে এতটাই পরম মনে করে যে অন্যের অস্তিত্ব, অধিকার ও মতামতকে অস্বীকার করতে শুরু করে, তখন উগ্রতার মানসিক ভিত্তি তৈরি হয়।

তবে এখানে একটি সতর্কতা জরুরি। উগ্রতার জন্য কেবল ধর্মকে দায়ী করা যেমন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সরলীকরণ, তেমনি ধর্মীয় মূল্যবোধের নামে উগ্রতার অস্তিত্ব অস্বীকার করাও আত্মপ্রবঞ্চনা। সমস্যাটি ধর্মের অস্তিত্বে নয়; সমস্যাটি হলো ধর্মকে মানুষ কীভাবে ধারণ করছে এবং কোন মানসিক কাঠামোর মধ্যে তাকে ব্যবহার করছে। যে ধর্ম মানুষকে বিনয়, ন্যায়, সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবমর্যাদার শিক্ষা দেয়, সেই ধর্ম উগ্রতার উৎস নয়; বরং উগ্রতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী নৈতিক প্রতিষেধক। উগ্রতা জন্ম নেয় তখনই, যখন ধর্মের নৈতিক দর্শনকে সরিয়ে তার পরিচয়গত, ক্ষমতাকেন্দ্রিক বা রাজনৈতিক আবরণকে সামনে আনা হয়।

একই কথা জাতীয়তাবাদ, রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা অন্য যেকোনো পরিচয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো পরিচয় নিজে বিপজ্জনক নয়; বিপজ্জনক হয়ে ওঠে তখন, যখন পরিচয় মানুষের মানবিকতার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে। ‘আমি কে’—এই প্রশ্নের উত্তর যখন ‘অন্যরা কে নয়’—এই সংজ্ঞার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন পরিচয় বিভাজনের অস্ত্র হয়ে ওঠে। সুস্থ পরিচয় মানুষকে আত্মমর্যাদা দেয়; অসুস্থ পরিচয় তাকে অন্যকে অবমাননা করার অধিকার দেয়। অতএব বাঙালির সংকটকে কেবল রাজনৈতিক সংকট কিংবা ধর্মীয় সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর গভীরে রয়েছে সমষ্টিগত চেতনার সংকট—একটি জাতির ‘আমরা’ হয়ে ওঠার অসম্পূর্ণতা। আমরা একই ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করেও পরস্পরের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি যথেষ্ট গভীর করতে পারিনি। আমরা স্বাধীনতা চাই, কিন্তু স্বাধীনতার সঙ্গে যে দায়িত্ব আসে তা অনেক সময় ভুলে যাই। আমরা অধিকার চাই, কিন্তু অন্যের অধিকারের প্রতি একই মাত্রার শ্রদ্ধা দেখাতে পারি না।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন একটি মানসিক বিপ্লব। এই বিপ্লব কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, কোনো শ্রেণির বিরুদ্ধে নয়। এটি আমাদের নিজেদের ভেতরের সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে। এই বিপ্লবের প্রথম ধাপ হলো—অন্যের সাফল্যকে নিজের ব্যর্থতা মনে না করা। একজন মানুষ এগিয়ে গেলে সমাজের সম্ভাবনাও এগিয়ে যায়। একজন প্রকৌশলী, শিক্ষক, কৃষক, উদ্যোক্তা, শিল্পী, শ্রমিক বা গবেষক সফল হলে তার সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; সঠিক সামাজিক কাঠামোয় তা বৃহত্তর সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ হলো ভিন্নমতকে সহ্য করার নৈতিক শক্তি অর্জন করা। আমি ভুল হতে পারি—এই সম্ভাবনাটি স্বীকার করাই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতার সূচনা। যে সমাজে কেউ ভুল স্বীকার করতে পারে না, সেখানে সত্যের বিকাশও থেমে যায়। মতের পার্থক্যকে শত্রুতায় রূপান্তর না করে যুক্তি, তথ্য ও সৌজন্যের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

তৃতীয় ধাপ হলো ধর্ম, রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয়কে মানবিকতার অধীন করা। কোনো পরিচয়ই মানুষের মর্যাদার ঊর্ধ্বে নয়। ধর্ম যদি মানুষকে বিনয়ী না করে, রাজনীতি যদি তাকে সহিষ্ণু না করে, জাতীয়তাবাদ যদি তাকে অন্যের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না করে—তবে সেই পরিচয়ের বাহ্যিক শক্তি যতই প্রবল হোক, তার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল।

চতুর্থ ধাপ হলো প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি থেকে বড় করে দেখা। ব্যক্তি-নির্ভর সংস্কৃতি যতদিন থাকবে, ততদিন প্রতিষ্ঠান দুর্বল থাকবে। আর প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে রাষ্ট্রও দুর্বল হয়। আমাদের প্রয়োজন এমন এক সংস্কৃতি, যেখানে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবক, প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; যেখানে পদ মর্যাদার উৎস নয়, দায়িত্বের প্রতীক।

সবশেষে প্রয়োজন ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-তে উত্তরণ। এই উত্তরণ কোনো স্লোগান নয়; এটি একটি জীবনদর্শন। এর অর্থ হলো—আমি সফল হব, কিন্তু আমার সাফল্য অন্যের ক্ষতির ওপর দাঁড়াবে না। আমি আমার অধিকার চাইব, কিন্তু অন্যের অধিকার অস্বীকার করে নয়। আমি আমার বিশ্বাস ধারণ করব, কিন্তু অন্যের বিশ্বাসের অস্তিত্ব অস্বীকার করব না। আমি আমার রাজনৈতিক মত প্রকাশ করব, কিন্তু ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার অধিকার দাবি করব না।

একটি জাতি কেবল একই ভাষায় কথা বললেই ঐক্যবদ্ধ হয় না। একই ভূখণ্ডে বসবাস করাও জাতিসত্তার পূর্ণতা নয়। জাতি তখনই সত্যিকার অর্থে জাতি হয়ে ওঠে, যখন তার মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন নৈতিক বোধ, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং ‘আমি’র ঊর্ধ্বে উঠে ‘আমরা’ হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়।

বাঙালির মুক্তির প্রশ্ন তাই কেবল রাষ্ট্র পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; এটি মানসিকতার পরিবর্তনের প্রশ্ন। সরকার বদলাতে পারে, রাজনৈতিক দল বদলাতে পারে, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলাতে পারে—কিন্তু মানুষের ভেতরের সংকীর্ণতা যদি অপরিবর্তিত থাকে, তবে পরিবর্তনের বাহ্যিক চেহারা বদলালেও সংকটের চরিত্র বদলাবে না। আমাদের সবচেয়ে জরুরি বিপ্লব তাই ক্ষমতার পরিবর্তন নয়—চেতনার পরিবর্তন। এমন এক চেতনার উন্মেষ, যেখানে অন্যের অগ্রগতি নিজের পরাজয় নয়, ভিন্নমত নিজের অস্তিত্বের হুমকি নয়, ধর্ম বিভেদের দেয়াল নয়—নৈতিকতার সেতু, আর রাষ্ট্র কোনো দূরবর্তী ক্ষমতার কাঠামো নয়—আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বের ক্ষেত্র। কারণ শেষ পর্যন্ত কোনো জাতিকে তার সড়ক, সেতু, অট্টালিকা কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে একা বিচার করা যায় না। জাতির প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার মানুষের পারস্পরিক আস্থায়, নৈতিকতায় এবং সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতায়।

বাঙালির সামনে তাই প্রশ্ন একটাই—আমরা কি কেবল পাশাপাশি বসবাসকারী কোটি কোটি ‘আমি’ হয়ে থাকব, নাকি সত্যিকার অর্থে একটি ‘আমরা’ হয়ে উঠব? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আমাদের ভবিষ্যৎ। বাঙালির সবচেয়ে জরুরি বিপ্লব তাই ক্ষমতার নয়—চেতনার; প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার নয়—নিজের সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করার; এবং সর্বোপরি, ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-তে উত্তরণের।

লেখক-কলামিস্ট

আজকালের খবর/বিএস 









Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft