সরকার বদলেছে। মন্ত্রীর চেয়ার বদলেছে, সচিবালয়ের অনেক পরিচিত মুখ বদলেছে, দপ্তরের নেতৃত্বে এসেছে নতুন মানুষ। ক্ষমতার ভাষা বদলেছে, প্রশাসনের অগ্রাধিকার বদলানোর কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের বহুদিনের একটি প্রশ্ন এখনো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে কি দুর্নীতির সংস্কৃতিরও পালাবদল হয়? নাকি শুধু দুর্নীতির সুবিধাভোগী মানুষের তালিকাটাই বদলায়? প্রশ্নটি এখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে। সরকারের প্রথম সচিব সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, “অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর” এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ঘুষখোরি ও লুটপাটের অভিযোগের কথা বলেছেন। দুটি বক্তব্যের ভাষা আলাদা হলেও বার্তাটি একই জায়গায় গিয়ে ঠেকে, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে দুর্নীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাকে আর বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির অপরাধ বলে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।
দুর্নীতি আমাদের দেশে নতুন কোনো শব্দ নয়। সরকার আসে, সরকার যায়, ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়, রাজনৈতিক স্লোগান বদলায়, উন্নয়নের অগ্রাধিকার বদলায়, কিন্তু ঘুষের টেবিল অনেক সময় একই জায়গায় থেকে যায়। একজন সাধারণ মানুষ একটি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘোরেন, ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যায়, তারপর কোথাও একটি অদৃশ্য ইঙ্গিত আসে, ‘কিছু করলে কাজটা দ্রুত হবে।’ এভাবেই ঘুষ ধীরে ধীরে অপরাধের জায়গা থেকে দৈনন্দিন জীবনের অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, একসময় মানুষ এটিকে আর দুর্নীতি বলেও মনে করে না। কাজ করাতে টাকা লাগবে, ফাইল নড়াতে কাউকে ধরতে হবে, অনুমোদনের জন্য তদবির করতে হবে, এই ধারণাগুলো যখন মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশায় পরিণত হয়, তখন দুর্নীতি শুধু প্রশাসনের সমস্যা থাকে না, সেটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ভেতরেই শিকড় গেড়ে বসে।
স্পিকারের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের প্রধানের মুখ থেকে যখন “অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর” এর মতো এত কঠোর মন্তব্য আসে, তখন বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রের ভেতরেই আত্মসমালোচনার প্রয়োজন তৈরি হয়। অবশ্যই একটি বক্তব্য দিয়ে দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একই কাতারে রাখা যায় না। প্রশাসনে অসংখ্য সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, যারা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাই অভিযোগের ব্যাপারে ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত মাপকাঠি। কিন্তু একই সঙ্গে স্পিকারের বক্তব্যকে হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়ারও সুযোগ নেই। কারণ রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রশাসনের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন গুরুতর অভিযোগের কথা বলেন, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, সমস্যাটি আসলে কতটা গভীরে পৌঁছেছে?
রাষ্ট্রের কাছে একজন নাগরিক কোনো অনুগ্রহ চাইতে যান না, তিনি তার অধিকার চাইতে যান। জন্মনিবন্ধন, ভূমি সেবা, পাসপোর্ট, কর, লাইসেন্স, সামাজিক নিরাপত্তা, পুলিশি সেবা, সরকারি হাসপাতাল কিংবা কোনো অনুমোদন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাগরিকের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেখানে যদি ঘুষ, তদবির কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাহলে ক্ষতিটা শুধু একজন ব্যক্তির হয় না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা। একজন নাগরিক যখন নিজের অধিকার পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, এই রাষ্ট্র কি সত্যিই আমার? আর যখন একই কাজ একজন প্রভাবশালী মানুষ পরিচয় বা ক্ষমতার জোরে সহজে করে ফেলেন, তখন আইনের সমতার ওপর মানুষের বিশ্বাস আরও দুর্বল হয়ে যায়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শুধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করলেই হবে না, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহু কঠোর বক্তব্য শুনেছি। ‘জিরো টলারেন্স’ শব্দবন্ধও বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো, সেই ঘোষণার পর বাস্তবে কতজনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হয়েছে, কতজনের বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা হয়েছে এবং কতজন প্রভাব, পরিচয় কিংবা ক্ষমতার কারণে পার পেয়ে গেছেন? দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই বক্তৃতায় যত সহজ, বাস্তবে ততটাই কঠিন। কারণ দুর্নীতির সঙ্গে অনেক সময় অর্থের পাশাপাশি ক্ষমতা, প্রভাব, সম্পর্ক এবং প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা জড়িয়ে থাকে। তাই এবার ঘোষণার চেয়ে ফলাফলই হবে আসল মাপকাঠি।
দুর্নীতির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয় তখন, যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষমতাবান। একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা কারও বিরুদ্ধে একই আইন প্রয়োগ করা যায় কি না, সেখানেই রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার পরীক্ষা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান যদি শুধু দুর্বলদের বিরুদ্ধে হয়, তাহলে সেটি দুর্নীতি দমন নয়, সেটি হবে নির্বাচিতভাবে আইন প্রয়োগ। আর নির্বাচিতভাবে আইন প্রয়োগ করলে দুর্নীতির সংস্কৃতি ভাঙে না, বরং দুর্নীতিবাজরা শুধু নতুন আশ্রয় খুঁজে নেয়।
আমাদের আরও একটি কঠিন সত্য স্বীকার করতে হবে, দুর্নীতির জন্য শুধু একজন কর্মকর্তা দায়ী নন। দুর্নীতির একটি পূর্ণাঙ্গ চক্র থাকে। কোথাও কর্মকর্তা সুবিধা নেন, কোথাও দালাল তৈরি হয়, কোথাও ঠিকাদার সুবিধা পান, কোথাও ব্যবসায়ী অবৈধ সুবিধা নেন, কোথাও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক আশ্রয় মেলে। এই চক্রের একটি অংশকে ধরে অন্য অংশকে ছেড়ে দিলে দুর্নীতি কমে না, শুধু তার পথ বদলায়। তাই দুর্নীতি দমন মানে শুধু ঘুষ নেওয়া ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া নয়, ঘুষের উৎস, মধ্যস্থতাকারী, সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতার আশ্রয়দাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনে সৎ কর্মকর্তাকে নিরাপদ না করলে দুর্নীতিবিরোধী কোনো অভিযানই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। একজন সৎ কর্মকর্তা যদি মনে করেন নিয়ম মেনে কাজ করলে তিনি একা হয়ে যাবেন, কিন্তু অনিয়মের সঙ্গে আপস করলে বদলি, পদোন্নতি কিংবা কর্মজীবনে সুবিধা পাওয়া সহজ হবে, তাহলে রাষ্ট্রের নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি সৎ কর্মকর্তাকে সম্মান, সুরক্ষা ও দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা দিতে হবে। প্রশাসনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ভবন, গাড়ি বা প্রযুক্তি নয়, সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ। তাদের মনোবল ভেঙে দিয়ে কোনো রাষ্ট্র দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে না।
দুর্নীতি কমানোর আরেকটি কার্যকর পথ হলো সরকারি সেবায় অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে আনা। যত বেশি সেবা ডিজিটাল হবে, যত বেশি আবেদন, অনুমোদন, অর্থ পরিশোধ ও নথির অগ্রগতি অনলাইনে দেখা যাবে, তত কমবে দরকষাকষির সুযোগ। কোথায় ফাইল আটকে আছে, কতদিন ধরে পড়ে আছে, কোন পর্যায়ে আছে, এসব তথ্য নাগরিকের কাছে দৃশ্যমান হলে ‘ফাইল চালানোর’ নামে দালালির সুযোগও কমবে। প্রযুক্তি দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না, কিন্তু দুর্নীতির বহু দরজা বন্ধ করতে পারে। তবে প্রযুক্তির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জবাবদিহি। একজন কর্মকর্তা তার অধীনস্থের দুর্নীতি দেখেও যদি নীরব থাকেন, তাহলে তিনি শুধু দর্শক নন, প্রশাসনিক দায়ের অংশীদার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যে এই দায়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়াই তাই তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের মানুষ এখন আর শুধু বক্তৃতা শুনতে চায় না। তারা ফল দেখতে চায়। তারা দেখতে চায়, একজন ঘুষখোর কর্মকর্তা সত্যিই শাস্তি পাচ্ছেন কি না। তারা দেখতে চায়, ঘুষ না দিয়েও একজন সাধারণ মানুষ তার কাজ করতে পারছেন কি না। তারা দেখতে চায়, একজন সৎ কর্মকর্তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তার চাকরি ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারছেন কি না। তারা দেখতে চায়, সরকারি প্রকল্পের ব্যয় অকারণে ফুলে-ফেঁপে উঠছে কি না। তারা দেখতে চায়, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তটি সত্যিই স্বাধীনভাবে হচ্ছে কি না। কারণ দুর্নীতি শুধু রাষ্ট্রের টাকা চুরি করে না, দুর্নীতি মানুষের সময় চুরি করে, অধিকার চুরি করে, সম্ভাবনা চুরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাসটুকুও চুরি করে।
সরকারের সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু নতুন প্রশাসন পরিচালনা করা নয়, পুরোনো প্রশাসনিক সংস্কৃতির কোন অংশ ভাঙতে হবে সেটি নির্ধারণ করা। কারণ সরকার বদলানো অপেক্ষাকৃত সহজ, কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কৃতি বদলানো কঠিন। একটি সরকার এক দিনে ক্ষমতায় আসতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির অভ্যাস ভাঙতে লাগে দীর্ঘ সময়, কঠোর প্রতিষ্ঠান, নিরপেক্ষ আইন, সৎ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক জবাবদিহি। আজ একজনকে শাস্তি দিয়ে কাল আরেকজনকে একই কাজ করার সুযোগ দিলে দুর্নীতি বন্ধ হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান না বানিয়ে প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী নিয়মে পরিণত করতে হবে।
বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহুবার যুদ্ধের ঘোষণা এসেছে। এবার মানুষ যুদ্ধের ঘোষণা নয়, যুদ্ধের ফল দেখতে চায়। তারা চায় না দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কোনো প্রতিশোধের হাতিয়ার হোক। তারা চায় না সরকার বদলালে শুধু দুর্নীতির সুবিধাভোগী বদলাবে। তারা চায় আইন সবার জন্য সমান হোক, তদন্ত হোক প্রমাণের ভিত্তিতে, বিচার হোক নিরপেক্ষভাবে এবং প্রশাসন চলুক নিয়মে। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো স্লোগান নয়, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে অনিয়ম করে পার পাওয়া কঠিন এবং নিয়ম মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
শেষ পর্যন্ত তাই প্রশ্নটি শুধু ‘দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী কতজন চিহ্নিত হলেন’ এটি নয়। প্রশ্নটি আরও গভীর, রাষ্ট্র কি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে, যেখানে দুর্নীতি করার সাহস কমবে এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার সাহস বাড়বে? স্পিকারের কঠোর মন্তব্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা যদি একই জায়গায় এসে মিলিত হয়, তাহলে এখন কথার পরবর্তী ধাপ হতে হবে দৃশ্যমান ব্যবস্থা। কারণ দেশের মানুষ আর অভিযোগের তালিকা শুনতে চায় না, তারা দেখতে চায় তালিকার পরিণতি। তারা দেখতে চায়, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড়ই হোন, তদন্তের দরজা তার জন্যও খোলা থাকে। তারা দেখতে চায়, সৎ কর্মকর্তা একা নন, রাষ্ট্র তার পাশে আছে।
সরকার বদলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা নতুন ভবন, নতুন প্রকল্প কিংবা নতুন স্লোগানে নয়। পরীক্ষা হবে সরকারি অফিসের সেই ছোট্ট টেবিলটিতে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ তার ফাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে যদি তাকে আর ঘুষের টাকা গুনতে না হয়, পরিচয় খুঁজতে না হয়, তদবির করতে না হয়, তাহলে বুঝব পরিবর্তন এসেছে। আর যদি সরকার বদলায়, চেয়ার বদলায়, মুখ বদলায়, কিন্তু সেই টেবিলে আগের মতোই টাকা ছাড়া ফাইল না নড়ে, তাহলে বুঝতে হবে বদলেছে শুধু ক্ষমতার মানুষ, বদলায়নি ক্ষমতার সংস্কৃতি। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সরকার কতবার বদলেছে তা শুধু গুনবে না; ইতিহাস জিজ্ঞেস করবে, কোন সময়ে রাষ্ট্র দুর্নীতিকে ভয় দেখিয়েছিল, আর কোন সময়ে দুর্নীতিকে সত্যিই ভয় পেতে বাধ্য করেছিল। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার একমাত্র প্রমাণ হবে একটি ঘুষমুক্ত রাষ্ট্রীয় সেবা, একজন নিরাপদ সৎ কর্মকর্তা এবং একজন সাধারণ নাগরিকের নির্ভয়ে বলা একটি বাক্য ‘আমার কাজ হয়েছে, কাউকে টাকা দিতে হয়নি।’
লেখক: মীর আব্দুল আলীম সাংবাদিক, কলামিস্ট
আজকালের খবর/এমকে