সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৬ এএম   (ভিজিট : ১০)
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যয় হলো বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যমুক্ত ও টেকসই বাংলাদেশ গঠন। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সরকারের উন্নয়ন দর্শনে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি দারিদ্র্যমোচন, কর্মসংস্থান, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষিতে পানির সরবরাহ, জলাবদ্ধতা হ্রাস, মাছের প্রজনন এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে Reduce, Reuse ও Recycle নীতি অনুসরণ করে আধুনিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

দারিদ্র্য দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায়। তাই উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দারিদ্র্যকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক ও মর্যাদাভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিদের জন্য ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ ২ কোটি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে ২ হাজার ৫শত টাকা নগদ সহায়তা বা খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যা দারিদ্র্য ও ক্ষুধা হ্রাসের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের জন্য কৃষি উপকরণ, উন্নত বীজ ও সার সহজলভ্য করার পাশাপাশি কৃষি বা শস্যবীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুপরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনা, যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে সম্পৃক্তকরণ, তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাবলয়। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বকালীন ও দুর্যোগকালীন সহায়তার আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বচ্ছতা, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত খাতেই ব্যবহার এবং নগদ সহায়তা সরাসরি নারী বা পরিবারের ব্যাংক/ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সক্ষমতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, ভাসমান ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য অবহেলিত সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। গৃহকর্মী ও গিগ কর্মীদের আইনগত সুরক্ষা, হতদরিদ্র ও এতিম শিশুদের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পুষ্টি সহায়তা এবং প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সামাজিক সুরক্ষা শুধু ভাতা প্রদানে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের মর্যাদা, সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করাই হবে মূল লক্ষ্য।

টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের জন্য বৈষম্য হ্রাসের পাশাপাশি সুশাসন, আইনের শাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের উন্নয়ন নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্পূর্ণ। নারী অধিকার, মর্যাদা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে তাদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। স্বাস্থ্যসেবা, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে নারীদের অগ্রাধিকার দিলে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতে পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্যমোচনের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, মানসম্মত শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত। নিরাপদ পরিবেশ ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পেলে প্রতিটি মেয়ে আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

কর্মজীবী নারীদের সহায়তায় কর্মস্থলে যুগোপযোগী ডে-কেয়ার বা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গার্মেন্টসসহ শিল্পকারখানা, অফিস ও আদালতে কর্মরত মায়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ‘ব্রেস্টফিডিং কর্ণার’ স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে মায়েরা কর্মক্ষেত্রে থেকেও নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো হবে। লক্ষ্য থাকবে গ্রাম বা শহর নির্বিশেষে প্রতিটি মেয়ে যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছিলেন; তাঁর পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারীর অর্থনৈতিক মুক্তিতে কাজ করছেন।

দেশের দারিদ্র্যপীড়িত, দুঃস্থ, পশ্চাৎপদ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো জরিপের ভিত্তিতে চিহ্নিত করে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এসব অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পানি, স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক সেবার উন্নয়ন করা হলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শহরমুখী অভিবাসনের চাপও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীবান্ধব জাতীয় পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বাস, ট্রেন ও লঞ্চে বিনা ভাড়া বা বিশেষ ভাড়া-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাচল করতে পারেন।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কন্যাশিশুর শিক্ষা, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তা, প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে উন্নয়ন বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর অংশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা বাড়বে, মানবসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যয় এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ, বৈষম্য হ্রাস এবং দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। বৈষম্যহীন, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে সমাজের সব মানুষের সমান সুযোগ সৃষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হলে উন্নয়নের সুফল আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে দারিদ্র্য আরও কমবে এবং প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছাবে। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির শক্তিশালীকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, সুশাসন, আইনের শাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক ও সক্ষম রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

লেখক: সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর

আজকালের খবর/এমকে










Advertisement
Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
Follow Us
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি : গোলাম মোস্তফা || সম্পাদক : ফারুক আহমেদ তালুকদার
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রাপা প্লাজা( ৭ম তলা), রোড-২৭ (পুরাতন) ১৬ (নতুন), ধানমন্ডি, ঢাকা -১২০৯।
ফোন: ৪১০২১৯১৫-৬, বিজ্ঞাপন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৯, সার্কুলেশন : ০১৭০৯৯৯৭৪৯৮, ই-মেইল : বার্তা বিভাগ- newsajkalerkhobor$gmail.com বিজ্ঞাপন- addajkalerkhobor$gmail.com
কপিরাইট © আজকালের খবর সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft