ঢাকার চলচ্চিত্রের সূচনালগ্নের গৌরবমাখা নাম এহতেশাম-মুস্তাফিজ ভাতৃদ্বয়। যাদের হাত ধরে বাণিজ্যিক ধারার সূচনা। বিস্মৃতির গহীনে এই গুণীজনরা। তাদের নামটি আজ অনেকেই ভুলতে বসেছে। অথচ বম্বে-করাচির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢাকার ইন্ডাস্ট্রিতে সোনা ফলাতে শিখিয়েছেন এই ভাতৃদ্বয়। তবুও তারা উপেক্ষিত নাম। উত্তরসূরীরাও যেনো মেনে নিয়েছে এই উপেক্ষা। তবে এ ধারাকে ফুলস্টপ করে দিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধ মো. আবদুস সালাম। তার দিকনির্দেশনায় ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে স্মরণীয় বরেণ্যদের সম্মাননা জানানো হয়। এতে পাকিস্তান থেকে মুঠোফোনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বরেণ্য পরিচালক এহতেশামের একমাত্র কন্যা ও কিংবদন্তী অভিনেতা নাদিমের স্ত্রী ফারজানা।
গত সোমবার বিকালে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক মো. আবদুল সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। বিষয়টি দক্ষিণের প্রশাসকের পিএস মনোয়ার হোসেন এবং ফারজানা নাদিম এই প্রতিবেদকের কাছে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদায়) জহিরুল ইসলাম স্বপন এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের উপস্থিতে ঐতিহাসিক মসধুমিতা সিনেমা হলে এই সম্মানান স্মারক তুলে দেওয়া হয় তাদের উত্তরসূরীদের হাতে। এসময় এহতেশামের পক্ষে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তার ছেলের ঘরের নাতি রামিজ রহমান। অপরদিকে মুস্তাফিজের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন ছেলে ইশতিয়াকুর রহমান।
জাতীয়ভাবে আয়োজিত এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মুঠোফোনে প্রশাসককে এহতেশাম কন্যা বলেন, নিঃশন্দেহে এটা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় সুখবর। এ জাতীয় অনুষ্ঠান এরআগে কখনো হয়নি, আর আমার আব্বা-চাচার যে অবদান তা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো স্বীকৃতিও দেওয়া হয়নি। যে কারণে আমরা পারিবারিকভাবে প্রশাসক আবদুস সালাম সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি একজন সংস্কৃতিবান্ধব প্রশাসক, আমরা তার সফলতা কামনা করছি।
মুঠোফোনে ফারজানা আজকালের খবরকে জানান, সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। হয়তো আমি পাকিস্তানে থাকি। কিন্তু মনটা ঢাকাতেই পড়ে থাকে। ঢাকার মেয়ে হিসেবে আমি যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছি সেখানে পারস্পারিক সম্মানবোধ আর অসাম্প্রদায়িকতা সবচেয়ে বড় শক্তি। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সে ধারা ফিরে আসবে।
সময় সুযোগ করতে পারলে শিগগিরই ঢাকায় আসবেন বলে এই প্রতিবেদকে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে দক্ষিনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, অনেক চেষ্টার পর একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এখানে ত্রুটি-বিচ্যুতিও থাকে কিন্তু সবকিছু স্বার্থক হয় যাদের নিয়ে অনুষ্ঠান যখন তারা ‘ভালো উদ্যোগ’ বলে মন্তব্য করেন। এহতেশামের কন্যা আমাদের ঢাকার মেয়ে, তিনি খুবই খুশি হয়েছেন সে কথাই মুঠোফোনে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এহতেশামের কন্যা ফারজানা পাকিস্তানের বিখ্যাত অভিনেতা নাদিম বেগের স্ত্রী। দুই ছেলের জননী ফারজানা পাকিস্তানে স্থায়ী হয়েছেন। সেখানে পারিবারিক আবহেই তার সময় কাটে।
অনুষ্ঠানে এদিন সিনেমা শিল্পে পাঁচজন বরেণ্য সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এরা হলেন, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, রফিকুজ্জামান, মাহমুদা চৌধুরী, অনুপম হায়াৎ এবং আবদুর রহমান।
আজকালের খবর/আতে