কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার সাংবাদিক মুজতবা সউদ। ফাইল ফটো
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস)-এর এক সময়ের সক্রিয় সদস্য, সুস্থধারার চলচ্চিত্র আন্দোলনের একজন অগ্রগামী কর্মী, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সক্রিয় সদস্য, কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার মুজতবা সউদ না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন গত ৩০ আগস্ট। পরে তাকে মিরপুর কালশী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ হারুন। পরবর্তীতে তার মৃত্যুতে শিল্পী, পরিচালক, সহকর্মী সাংবাদিকবৃন্দ শোকাস্তব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুজতবা সউদের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
দেশবরেণ্য কাহিনীকার ও পরিচালক ছটকু আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন- ‘শুধু ২৬,২৭,২৮ অগাষ্ট নয় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই আমার প্রিয় মুজতবা সউদ এর শুভেচ্ছা বাণী পেতাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেক গুণী লেখক ইতিহাসবিদ সউদ ভাই বয়সে আমার ছোট হলেও গুণে আমার চেয়ে অনেক বড়। আমাকে নিয়ে অনেক অনেক বড় লেখা লিখেছে। অতীতের কোন কিছু জানায় তার খটকা থাকলে ফোন করে খটকা দুর করে নিতো। চলচ্চিত্র শিল্পী গায়ক গায়িকা কবি সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ বড় বড় মনীষীদের জন্য মৃত্যু ইতিহাস সব প্রতিদিন তুলে ধরতো। তার লেখনীর মাধ্যমে আমরা তাদের নতুন করে চিনতাম। আমি বলতাম স্উদ আমি মরে গেলে তুমি বছর বছর আমার জন্মদিন ও মৃত্যু বার্ষিকীতে আমার কথা লিখে আমাকে বাঁচিয়ে রেখো অথচ আজ তাঁকে নিয়ে আমার লিখতে হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। এই লেখাটাও সে পড়তে পারবে না।’
‘আমি বাকরুদ্ধ, আমি গভীর শোকাহত। মহান আল্লাহ পাক উনাকে বেহেস্তের সর্বত্তোম স্থান জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন আমিন।’
বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যান্টিনে প্রফেসর আব্দুস সেলিম, ফেডারেশ অব ফিল্ম সোসাইটিজের সেক্রেটারি নুরুল্লাহ, চলচ্চিত্র গবেষক মীর শামসুল আলম বাবু এবং সাংবাদিক আহমেদ তেপান্তরসহ প্রয়াত মুজতবা সউদ।
মুজতবা সউদের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন মেগাস্টার উজ্জল। তিনি লিখেন, ‘এফডিসিতে দেখা হয়েছিল কিছুদিন আগে - আজ শুধুই স্মৃতি। ধীরস্থির স্বভাবের সাংবাদিক সউদ আমাদের ছেড়ে চলে গেল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি সউদের সকল গুনাহ খাতা মাফ করে বেহেস্তের সর্বোচ্চ মোকামে স্থান করে দেন। আমিন।
অভিনেতা বাপ্পারাজ লিখেন- ‘একজন অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, অমায়িক মানুষ ছিলেন সউদ ভাই। সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল আমার সাথে। স্নেহ করতেন আমাকে অনেক। অনেক দিনের পরিচয়। রোজ সকালে মেসেঞ্জারে আমাকে শুভেচ্ছা জানাতেন, সারাদিন যেন ভালো যায় সেজন্য শুভ কামনা করতেন। মিস করবো আপনাকে।’
‘অনেক অনেক দোয়া রইল আপনার জন্য। এক এক করে, আপনাদের মত ছায়া গুলো আমাদের মাথার উপর থেকে সরে যাচ্ছে।’
বাচসাস-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফুল আজম, চিন্ময় মুৎসুদ্দী, মাহমুদা চৌধুরী, অনুপম হায়াৎ, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, প্রযোজক ফরমান আলী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফাহমিদুল ইসলাম শান্তনু প্রমুখ মুজতবা সউদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে মুজতবা সউদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ, প্রদর্শক সমিতি এবং বাচসাস।