বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি পপ গায়ক আলমগীর হক নতুন ফোঁক গান প্রকাশ করলেন। অগাস্টের শুরুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলমগীর জানিয়েছিলেন, নতুন একটি ফোক গান করছেন। শিগগির প্রকাশ করবেন সেই গান। সেই কথা অনুযায়ী ২৯ আগস্ট তিনি প্রকাশ করলেন তার গাওয়া বাংলা লোকগান।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের ‘ও আমার দরদি আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় চড়তাম না’ শিরোনামের গানটি তিনি রেকর্ডিং করেছেন তার হোম স্টুডিওতে। ভাটিয়ালি ঘরানার মূল গানটি গেয়েছিলেন মরমি শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ। প্রকাশের পরেই আলমগীরের কণ্ঠের ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের গানটি সংগীতানুরাগীদের নজর কেড়েছে। এরই মধ্যে অসংখ্য শ্রোতা গানটি শুনে ইতিবাচক মন্তব্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাপশ ভৌমিক লিখেছেন, যতবারই আপনার গান শুনি, প্রতিবারই একটি আক্ষেপ মনে জাগে,বাংলা সংগীত আপনাকে পেলে কতই না সমৃদ্ধ হতো! আপনার মতো একজন শিল্পী বাংলা সংগীতের ভাণ্ডারে কতটা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারতেন, সেই ভাবনাটাই বারবার মনে হয়।
ওয়াহিদ রুকন লিখেছেন. যা গাইলেন, যেন বাংলাদেশটারেই বুকে-মুখে তুলে নিলেন। আপনার শিকড়, আপনার মাটি, সেই মাটির ভাটিয়ালিরে যে এখনও লালন করে আছেন, সেজন্য সালাম জাইনেন।
আহা বাংলার ভাটিয়ালি, আহা বাংলার সন্তান!
গানটি নিয়ে সোশ্যালে আলমগীর লিখেছেন, ‘তিন সপ্তাহ আগে দেওয়া কথা অনুযায়ী নতুন লোকসংগীতটি প্রকাশ করলাম। গানটি কিংবদন্তি পল্লিকবি জসীমউদ্দীন (কথা) এবং লোকসংগীতের গুরু আব্বাসউদ্দীন আহমদকে (সুর-সংগীত) শ্রদ্ধার সঙ্গে উৎসর্গ করা হলো।’
আলমগীর হকের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১১ আগস্ট ঢাকায়। শান্তিনগরে একটি সংগীতানুরাগী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর বাবা ফার্মুজার হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও সংগীতানুরাগী। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড আইয়োলাইটসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন আলমগীর। ১৯৭০-এর দশকে করাচির একটি ক্যাফেতে গান গেয়ে তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয়। ‘আলবেলা রাহি’, ‘দেখা না থা’র মতো গান গেয়ে তিনি রাতারাতি তারকা বনে যান। তাকে পাকিস্তানের ‘কিং অব পপ’ বলা হয়। পরে অনেক বাংলা গান ও লোকগান গেয়ে বাংলা-ভাষাভাষী মানুষের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। উর্দু প্লে ব্যাকে আহমেদ রুশদির পর সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক রবীন ঘোষের সঙ্গে আলমগীরের জুটি এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে।
তার গাওয়া কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা গান ‘আমায় ভাসাইলিরে’, ‘আমার হার কালা করলাম রে’ ইত্যাদি। আলমগীর হক এখন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে থাকেন। আলমগীরের ছোট ভাই দস্তগীর হক সত্তরের দশকে বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের উন্মেষলগ্নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভারস’-এর লিড ভোকাল ও গিটারিস্ট ছিলেন। চলতি বছরে মারা যান। কিংবদন্তি গিটারবাদক নয়ন মুন্সীও এই পরিবারের সন্তান, যিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রথম সারির বাংলাদেশি গিটারিস্ট হিসেবে পরিচিত। আলমগীরের বোন জর্জিনা হক বাংলাদেশের প্রথম নারী ড্রামার। তিনি ১৯৭২ সালে ‘স্পন্দন’ ব্যান্ডের সঙ্গে ড্রামস বাজিয়েছিলেন।
আজকালের খবর/আতে