সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে উপজেলার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১২ লাখ টাকা বিতরণ না করে লুকোচুরি ও আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরাদ্দ আসার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সে অর্থ বিতরণ করছেন না শিক্ষা অফিসারে বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত জুন মাসে চলতি ২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। প্রতিটি বিদ্যালয় দেড় লাখ টাকা করে পাওয়ার কথা। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী জুলাই মাসের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের অনুকূলে এই অর্থ বিতরণ করার কথা থাকলেও শিক্ষা কর্মকর্তা তা বণ্টন না করে দুই মাস ধরে টাকা আটকে রাখেন।
বিদ্যালয়গুলো হলো মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দীঘলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মীরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম ও অর্থ ছাড়ে অনাবশ্যক বিলম্ব করার মৌখিক অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে এই শিক্ষা কর্মকর্তা কিছু শিক্ষকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে প্রতিস্থাপন বদলি বাণিজ্য করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার দোষ আমি টাকা বিতরণ করতে গড়িমসি করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই টাকা বণ্টন করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। বরাদ্দের টাকা নির্ধারিত সময়ে বিতরণ না করে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে.এম. সাইফুল হাসান বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি তদন্তক্রমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/বিএস