ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তরুণ সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মামলার এজাহারনামীয় ও তদন্তে প্রকাশিত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. সাগর (২০), পিতা মো. টিটু মিঞা এবং তদন্তে প্রকাশিত আসামি মো. সাদ্দাম (৩৬), পিতা রবিউল্লাহ ও মো. বোরহান (২২), পিতা আবুল কালাম।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় নবীনগর থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ২ এপ্রিল ২০২৬, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা করা হয়। মামলাটির জি.আর নম্বর-৭৩/২০২৬ (নবীনগর)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আতিকুর রহমান পেশায় একজন সেলুন কর্মী ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ ছিল। গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আসামি সাগর আতিকুরকে তার ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১২টা ও রাত ১টা ৩ মিনিটের দিকে আতিকুর তার মাকে ফোন করে জানায়, সে ঈদগাঁহে রয়েছে এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবে। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন ১ এপ্রিল সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নবীনগর থানাধীন বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের রুস্তুম হাজী ও বাচ্চু হাজীর যৌথ পুকুর থেকে আতিকুর রহমানের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে নবীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার, পিবিআই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দেশনায় মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে। এসআই (নিঃ) মো. শাহাদাত হোসেনকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপির দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার শচীন চাকমার তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী কর্মকর্তা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আখাউড়া থানাধীন হরষপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মো. সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সাগরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ের সামনে বিশেষ কৌশলে অভিযান চালিয়ে তদন্তে প্রকাশিত আসামি মো. সাদ্দাম ও মো. বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তদন্তে জানা যায়, নিহত আতিক ও আসামি সাগর পরস্পরের পরিচিত ও বন্ধু ছিলেন। ঘটনার রাতে তারা বোরহানের ঘরে একত্রিত হয়। সেখানে তারা মাদক সেবন ও লুডু খেলা নিয়ে সময় কাটায়। একপর্যায়ে পূর্ববিরোধের জেরে আতিকের সঙ্গে বোরহানের তর্কাতর্কি শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে বোরহান আতিককে আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে। পরে তাকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দামের নির্দেশে আতিককে চেপে ধরে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে তা পুকুরে ফেলে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এছাড়া নিহতের জুতা বাঁশঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে রেখে হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয় বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাকি আলামত উদ্ধারে পিবিআইয়ের অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস