গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৭ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলামকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনকারীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকায় গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নির্যাতিত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে নির্যাতিত শিশুর পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিশুটিকে বলাৎকারের ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্ত রাজ্জাক এখনো গ্রেপ্তার হননি। অন্যদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই শিশুটির পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত রাজ্জাক মিয়া ও তার ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আমিনুল ইসলাম মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুলাই উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের মৃত মোন্তাজ আলীর ছেলে মো. রাজ্জাক মিয়া পাউরুটি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে তার রুটি তৈরির কারখানায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক মাটিতে শুইয়ে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা দিনমজুর মো. উজ্জ্বল মিয়া সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিকে শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, একটি শিশুর সঙ্গে এমন বর্বরতার বিচার না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হবে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আজকালের খবর/বিএস