ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন (লাইসেন্স) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রোগীদের বেডে প্রয়োজনীয় মনিটরের অভাব, ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পান কর্মকর্তারা।
এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমসহ পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন,যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা তার উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের আলোকে তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকালের খবর/বিএস